ছোট মাছ আহরণ ও বাজারজাতকরণ সম্পর্কে জানতে চাই

QuestionsCategory: Aquacultureছোট মাছ আহরণ ও বাজারজাতকরণ সম্পর্কে জানতে চাই
Anonymous asked 3 years ago

*

1 Answers
ABM Mohsin answered 3 years ago

আহরণ
পুকুর বা জলাশয়ে উৎপাদিত মাছের আকার, ওজন, বাজার দর, বিভিন্ন ঝুঁকি এবং সর্বোপরি পুকুরে মাছের ধারণক্ষমতা (carrying capacity) বিবেচনায় রেখে মাছ আহরণ করা প্রয়োজন। প্রজাতি ভেদে ছোট মাছ আংশিক আহরণ (partial harvest) আবার অনেক ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ আহরণ (total harvest) করা হয়। ছোট মাছ আহরণের জন্য বিভিন্ন ধরনের জাল (যেমন- বেড় জাল, ধর্ম জাল, কৈ জাল, ঝাঁকি জাল ইত্যাদি) এবং বিভিন্ন ধরণের ফিশ ট্রাপ (কৈ ডুগাইর, খৈল সুন, ইচার চারি ইত্যাদি) ব্যবহার করা হয়। ঠান্ডা ও পরিস্কার আবহাওয়ায় মাছ ধরা উচিত। বিশেষ করে নিকটবর্তী বাজারে পাঠানোর ক্ষেত্রে ভোরে এবং দুরবর্তী বাজারের জন্য মধ্যরাতে মাছ আহরণের ব্যবস্থা করতে হবে।
 
আংশিক আহরণ
চাষযোগ্য মলা, পুঁটি, চেলা ইত্যাদি মাছ অল্প সময়ের মধ্যে (২ মাস) প্রচুর পরিমাণে পোনা উৎপাদন করে। ফলে পুকুরে এসব মাছের ঘনত্ব অত্যাধিক বেড়ে যায়। এজন্য এসব মাছের আংশিক আহরণ অত্যাবশ্যক। মাছ ব্রুড হিসাবে মজুদের ২ মাস পর ১৫ দিন অন্তর অন্তর সুতি বেড় জাল অথবা ধর্ম জাল ব্যবহার করে আংশিক আহরণ করা প্রয়োজন।
 
সম্পূর্ণ আহরণ
বাণিজ্যিকভাবে কতিপয় চাষযোগ্য ছোট মাছ যেমন কৈ, শিং, মাগুর, পাবদা, গুলশা ইত্যাদি বেড় জাল দিয়ে পুরোপুরি আহরণ করা যায় না। তাই পুকুর শুকিয়ে এসব মাছ সম্পুর্ণ আহরণ করতে হয়। প্রকৃতপক্ষে মাছ আহরণ চাষির ইচ্ছার উপরে অনেকাংশে নির্ভরশীল। চাষির প্রয়োজন মাফিক অনেক ক্ষেত্রে বেড় জাল বা ঝাঁকি জাল ব্যবহার করে মাছ আংশিক আহরণ করা যায়।
 
বাজারজাতকরণ
মাছের বাজার দর বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন ও ঋতুভেদে কম বেশি হয়ে থাকে। লাভজনক দামের প্রতি খেয়াল রেখে মাছ বাজারজাত করা উচিত। মাছের বাজার দর অধিক পাওয়ার জন্য মাছ ধরার পূর্বেই দেশের বড় বাজারসমুহে যোগাযোগ স্থাপন করে বাজার দর যাচাই এর ব্যবস্থা করতে হবে এবং বাজারে সম্ভব হলে প্রজাতিভেদে জীবন্ত অবস্থায় ও ছোট বড় আকারের মাছ আলাদা ভাবে বাছাই করে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
 
বাংলাদেশের অধিকাংশ জলাশয় থেকে আহরিত মাছ সরাসরি ভোক্তার নিকট বিক্রয় করা হয় না। বিক্রয় প্রক্রিয়া কতগুলো চ্যানেল বা ধাপের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে ভোক্তার কাছে পৌঁছে। ছোট মাছের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়না। এ ধাপগুলো হলো প্রাথমিক বাজার, দ্বিতীয় ধাপ বাজার এবং অবশেষে ভোক্তার ক্রয়ের জন্য সর্বশেষ বাজার ধাপ। তবে বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে কৈ, শিং, মাগুর ইত্যাদি মাছের উৎপাদন খামার হতে সরাসরি পাইকরি বাজারে অথবা রাজধানী শহরসহ বড় বড় শহরে বাজারজাত করা হচ্ছে। এতে উৎপাদনকারী অধিক লাভবান হচ্ছে।
 
পোনা মজুদের ৩-৪ মাসের মধ্যে কৈ মাছ ৮০-১০০ গ্রাম, শিং ৫০-৮০ গ্রাম ও মাগুর মাছ ১০০-১৫০ গ্রাম ওজনের হলে বাজারজাতকরনের জন্য উপযুক্ত হয়। এ সময় বাজার চাহিদা অনুযায়ী এসব মাছ আহরণ করে জীবন্ত অবস্থায় প্লাষ্টিক ড্রামে করে বাজারজাত করা যায়। সরপুঁটি ও বাটা মাছ ৩-৪ মাসের মধ্যে ১৫০-২০০ গ্রাম এবং গুলশা, পাবদা মাছ ৪০-৫০ গ্রাম ওজনের হলে বাজারজাত করা যায়।
 
মাছ আহরণ ও বাজারজাতকরণে বিবেচ্য বিষয়সমূহ

  • বাজার দর যাচাই করা
  • ক্রেতা নির্ধারণ করা
  • জেলে ও জাল ঠিক করা
  • পরিবহন ব্যবস্থা ঠিক করা
  • উপযুক্ত পরিমাপক যন্ত্রের ব্যবস্থা করা
  • জীবন্ত অবস্থায় বাজারজাত করার জন্য কন্টেইনার বা ড্রামের ব্যবস্থা করা
  • পরিবহনকালীন সংরক্ষণের জন্য পাত্র ও বরফের ব্যবস্থা করা