তেলাপিয়া মাছের পোনা উৎপাদনে হ্যাচারী ও চাষ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে জানতে আগ্রহী

1 answer

১. তেলাপিয়ার পরিচিতি, চাষের গুরুত্ব ও সুবিধা
১.১ ভূমিকা
বাংলাদেশসহ এশিয়ার অন্যান্য দেশে কয়েক দশক থেকেই অভ্যন্তরীণ এবং সামুদ্রিক উম্মুক্ত জলাশয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশের অবয় এবং অধিক মাত্রায় মাছ আহরণের ফলে মাছের উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে যাচ্ছে। ফলে মাছ সরবরাহের ঘাটতি মেটানোর জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বিকল্প হিসাবে মাছ চাষকে বেছে নেয়া হয়েছে। উন্নয়নশীল দেশসমূহের মধ্যে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান এবং শ্রীলংকায় তেলাপিয়া চাষের উজ্জ্বল এবং সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ থাকা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত এইসব দেশের সরকার মাছটি চাষের ব্যাপারে খুব বেশি গুরুত্ব আরোপ করছে না। বাংলাদেশ এবং ভারতে দীর্ঘদিন থেকেই দেশী ও বিদেশী কার্প এবং চিংড়ি চাষের ক্ষেত্রে জোর প্রচেষ্টা এবং পুঁজি বিনিয়োগ করা হয়েছে। উন্নত প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং প্রয়োগের মাধ্যমে বিশেষ করে কার্পজাতীয় মাছের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু স্বাদুপানির জলাশয় ছাড়া অন্য কোন পরিবেশে এদের বৈচিত্রময় বা ভিন্নমুখীকরণ সম্ভব হয়নি। অন্য দিকে সীমিত জলসম্পদ এবং প্রচন্ড আর্থিক দুরবস্থার কারণে গ্রামীণ মানুষকে ব্যাপকভাবে কার্প ও চিংড়ি চাষে উদ্বুদ্ধ করা যায়নি। এই দেশে বিদ্যমান স্বাদুপানি এবং লোনাপানি বা আধা সামুদ্রিক পানির মত সকল জলজ পরিবেশে স্বল্প সময়ে এবং কম খরচে দ্রুত বর্ধণশীল প্রজাতি হিসাবে তেলাপিয়াকে বৈচিত্র্যময় এবং অত্যাধুনিক মৎস্যচাষ উন্নয়নে ব্যবহার করে উপরে বর্ণিত অবস্থা থেকে উত্তরণের সুযোগ নেয়া যেতে পারে। বাংলাদেশে তেলাপিয়া চাষের একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ থাকা সত্ত্বেও কিছু কিছু মহল এবং নীতিনির্ধারকদের উদাসীনতার কারণে বিষয়টি সঠিকভাবে অনুধাবন করতে বেশ সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে। ১৯৭৪ সালে তেলাপিয়া নাইলোটিকার মত একটি অত্যন্ত উৎপাদনশীল প্রজাতি এইদেশে আমদানি করা হলেও মাছটির সঠিক গুণাগুণ অনুধাবন করা সম্ভব হয়ে উঠেনি। পরবর্তীতে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক ১৯৯৪ সালে তেলাপিয়া নাইলোটিকার গিফট জাত আমদানি করে নিবিড় জেনেটিক গবেষণার মাধ্যমে বিএফআরআই সুপার গিফট জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। সুপার তেলাপিয়ার এই জাত ক্রমান্বয়ে দেশব্যাপী জনপ্রিয়তা লাভ করতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিএফআরআই সুপার তেলাপিয়ার মিশ্র লিঙ্গ এবং মনোসেক্স সব পুরুষ জাতের পোনা উৎপাদনের জন্য প্রায় ২৫০টি বাণিজ্যিক হ্যাচারী গড়ে উঠেছে। সেদিন বোধ হয় খুব বেশি দূরে নয় যেদিন সুপার তেলাপিয়াসহ অন্যান্য উন্নত জাতের তেলাপিয়ার চাষাবাদ বাংলাদেশে বিদ্যমান স্বাদুপানি ও লোনাপানি বা আধা-সামুদ্রিক জলাশয়ে ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করবে। অতি সম্প্রতি তেলাপিয়া বিশ্বজনীন মাছ (global fish) হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে এবং মাছটিকে ২১ শতকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য প্রজাতি হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এশিয়ার বিভিন্ন দেশ সহ পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও স্বাদুপানি এবং লোনাপানিতে তেলাপিয়ার আধানিবিড় থেকে অতি নিবিড় চাষ ব্যবস্থাপনা দ্রুততার সাথে প্রসার লাভ করছে। ২০০৫ সালে বিশ্বে তেলাপিয়া মাছের উৎপাদন ছিল ২.৫ মিলিয়ন টন, যা বিশ্বের মোট মৎস্য উৎপাদনের প্রায় ৪.০%। এশিয়ার মধ্যে অন্যতম ৮টি তেলাপিয়া মাছ উৎপাদনকারী দেশ হচ্ছে চীন, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, তাইওয়ান, লাউস, মালয়েশিয়া এবং মায়ানমার, যে সব দেশে যথাক্রমে ৬১.১%, ১০.৮%, ১০.১%, ৭.৮%, ৬.১%, ২.০%, ১.৮% এবং ০.১% তেলাপিয়া উৎপাদন করছে । মৎস্য অধিদপ্তরের (২০০৭) এর তথ্য অনুসারে ২০০৫ সালে বাংলাদেশে তেলাপিয়ার উৎপাদন ছিল প্রায় ০.০২ মিলিয়ন টন। বিগত ১০ বছরে (২০০০-২০১০), এই দেশে তেলাপিয়ার চাষ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সুতরাং আশা করা যায় অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ এশিয়ার প্রথম সারির ৮টি তেলাপিয়া উৎপাদনকারী দেশের মধ্যে স্থান করে নিতে পারবে, যদিও বাংলাদেশের এই উৎপাদনের পরিমান সম্ভবত এখনও FAO এর fisheries database statistics এ অন্তভূক্ত হয়নি। এই অবস্থানে পৌঁছালে বিশ্বের প্রথম সারির ৮টি তেলাপিয়া উৎপাদনকারী দেশসমূহের মধ্যে তেলাপিয়া উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ১.৫% অবদান রাখতে পারেবে।

১.২ বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রজাতির তেলাপিয়া আমদানি
tilapia species bangladeshবাংলাদেশে ১৯৫৪ সালে থাইল্যান্ড থেকে মোজাম্বিক তেলাপিয়া প্রথম আমদানী করা হয়। এই প্রজাতির তেলাপিয়া দ্রুত প্রজননে সম, ঘন ঘন পোনা উৎপাদন, ছাই বর্ণের এবং কম উৎপাদনশীল হওয়ার কারণে চাষীদের কাছে খুব গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। ১৯৭০ সালের দিকে এশিয়ার কতিপয় দেশে তেলাপিয়া নাইলোটিকা স্বল্প সময়ে অধিক বর্ধণের মত আরো কিছু গুণাগুণের কারণে চাষের জন্য দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করতে শুরু করে। ফলে ১৯৭৪ সালে UNICEF প্রথম থাইল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে তেলাপিয়া নাইলোটিকার চিত্রলাদা জাত আমদানি করে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক ১৯৮৭ সালে দ্বিতীয় বারের মত থাইল্যান্ড থেকে তেলাপিয়া নাইলোটিকার জাত আমদানি করা হয়। লাল তেলাপিয়ার হাইব্রিড জাত ১৯৮৮ সালে থাইল্যান্ডের ব্যাংককস্থ Asian Institute of Technology (AIT) হতে আমদানি করা হয়। ১৯৯৪ সালে WorldFish Centre (আগের ICLARM) একটি প্রকল্পের মাধ্যমে গিফট জাতের তেলাপিয়া জেনেটিক জাত উন্নয়ন গবেষণার জন্য আমদানি করে। ২০০৫ সালে মালয়েশিয়া থেকে লাল তেলাপিয়ার আরেকটি জাত গবেষণার জন্য বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটে আনা হয়েছে।
১.৩ গিফট জাতের তেলাপিয়ার ইতিহাস ও চাষের সুবিধা
তেলাপিয়া মাছের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এদের অধিকাংশই ডিম মুখে রেখে তা দেয় এবং পোনা সাাঁতার কাটতে অভ্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত বাবা মার তত্বাবধানে থাকে এবং এই বৈশিষ্টের উপর নির্ভর করে মৎস্য বিজ্ঞানিরা এদেরকে কয়েকটি শ্রেণীতে বিভক্ত করেছে।
Genus Tilapia: এরা মুখে ডিম রাখে না। মাটির গর্তে উপরিভাগে ডিম লেগে থেকে ফুটে যায়। যেমন- Tilapia zilli.
Genus Saratherodon: শুধু পুরুষ মাছ মুখে ডিম রেখে তা দেয় যেমন- Saratherodon galihaeus.
Genus Oreochromis: শুধু স্ত্রী মাছ মুখে ডিম রেখে তা দেয় যেমন- Oreochromis niloticus, Oreochromis mossambicus.
তেলাপিয়া মাছের আদি নিবাস আফ্রিকায়। এই মাছের প্রায় ১০০টি প্রজাতি রয়েছে। এদের মধ্যে নাইলোটিকা ও লাল তেলাপিয়াসহ আরো ক’টি প্রজাতি চাষের উপযোগী মাছ বলে ইতোমধ্যে চিহ্নিত হয়েছে। কারণ এরা কম সময়ে স্বল্প গভীরতায় বেশী উৎপাদন দিতে সম। গিফট তেলাপিয়ার জাতটি বিভিন্ন দেশ থেকে সংগৃহীত তেলাপিয়া নাইলোটিকার ৮টি জার্মপ্লাজমের মধ্যে পুঞ্জীভূত নির্বাচন (mass selection) পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে WorldFish Centre কর্তৃক ফিলিপাইনে প্রথম উদ্ভাবন করা হয়েছে। পরীামূলক গবেষণায় গিফট জাত ফিলিপাইনের স্থানীয় জাতের তেলাপিয়ার চেয়ে ৬০% অধিক বৃদ্ধি এবং ৫০% বেশি বাঁচার হার প্রদর্শন করেছে। ১৯৯৪-৯৬ সালে বাংলাদেশসহ এশিয়ার অন্যান্য দেশ যেমন-চীন, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড এবং ভিয়েতনামে এই জাতটির মূল্যায়ন গবেষণার জন্য ডড়ৎষফঋরংয ঈবহঃবৎ এর সার্বিক তত্বাবধানে DEGITA (Dissemination and Evaluation of Genetically Improved Tilapia in Asia) প্রকল্প পরিচালিত হয়েছে। বাংলাদেশে মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র এবং মাঠ পর্যায়ে গিফট জাতের সাথে স্থানীয় জাতের তুলনামূলক মূল্যায়ন গবেষণা ইতিমধ্যে পরিচালিত হয়েছে। এই নিরীায় গবেষণা কেন্দ্রের পরিবেশে গিফট জাত স্থানীয় জাতের চেয়ে ৫৭% এবং মাঠ পর্যায়ে গিফট জাত স্থানীয় জাতের চেয়ে ৫২% অধিক উৎপাদনশীল বলে প্রমাণিত হয়েছে। DEGITA প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য দেশসমূহে বিশেষ করে চীন, থাইল্যান্ড এবং ভিয়েতনামেও গিফট জাত ঐসব দেশের স্থানীয় তেলাপিয়া নাইলোটিকা জাতের চেয়ে অধিক উৎপাদনশীলতার বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করেছে। গিফট জাত বাংলাদেশে আমদানি করার পর থেকেই বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট এই মাছটির জার্মপ্লাজম সংরণ এবং জেনেটিক সিলেকশন পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে আরো উন্নত জাত উন্নয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ১৯৯৬ সালে এবং পরবর্তীতে ২০০৫ এ যথাক্রমে ফিলিপাইন এবং মালয়েশিয়া থেকে আরো দুটি উন্নত জার্মপ্লাজম সংগ্রহের মাধ্যমে এই গবেষণা কার্যক্রম জোরদারকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
গিফট জাতের তেলাপিয়া দেশে বিদ্যমান অন্যান্য তেলাপিয়ার চেয়ে ইতোমধ্যে শতকরা ৫০-৬০ ভাগ বেশী উৎপাদনশীল বলে প্রমাণিত হয়েছে। এটি নি:সন্দেহে পোনা উৎপাদন ও চাষের জন্য একটি উৎকৃষ্ট জাতের তেলাপিয়া মাছ। বর্তমানে বিজ্ঞানীগণ একে সুপার তেলাপিয়া বলে অভিহিত করেছেন।

১.৪ গিফট তেলাপিয়া চাষের সুবিধা

  • এটি উচ্চ ফলনশীল ।
  • পুকুরে ১ মিটার গভীরতায় ৩-৪ মাসেই বিপনণযোগ্য হয় ।
  • চার মাস পর পর বছরে কমপে তিনটি ফলন চক্র তোলা সম্ভব ।
  • যে কোন খাবার এরা পছন্দ করে ।
  • সহজে রোগাক্রান্ত হয় না ।
  • সহজে পোনা উৎপাদন সম্ভব ।
  • অল্প পুঁজিতে চাষ করা যায় ।
  • খেতে সুস্বাদু এবং বাজারে চাহিদা বেশী ।

১.৫ তেলাপিয়া হ্যাচারী মালিকেরা বর্তমানে যে সমস্ত বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হচ্ছেন
বর্তমানে হ্যাচারী মালিকেরা মূলত তিন ধরণের অসুবিধায় পড়ছেন – প্রযুক্তিগত, অর্থনৈতিক ও প্রাকৃতিক । নিচে Innovision কর্তৃক বাংলাদেশের বেশ কিছু তেলাপিয়া হ্যাচারীর উপরে সম্প্রতি পরিচালিত একটি সার্ভেতে প্রাপ্ত হ্যাচারী মালিকেদের মতামত তুলে ধরা হলো –
tilapia hatchery problem

২. গিফট তেলাপিয়ার প্রজনন কৌশল, জাত উন্নয়ন ও পোনা উৎপাদন
২.১ ভূমিকা
গিফট তেলাপিয়া একটি উন্নত জাতের মাছ যা অনায়াসে যে কোন ছোট বড় পুকুর ও ডোবাতে চাষ করা যায়। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ফিলিপাইনস্থ ইকলার্ম থেকে নাইলোটিকার GIFT জাত আমদানী করে নির্বাচিত প্রজনন ও জেনেটিক গবেষণার মাধ্যমে অধিক উন্নত জাতে রূপান্তর করতে সম হয়েছে যার নাম দেয়া হয়েছে BFRI-GIFT জাত। সম্প্রতি কালে গিফট তেলাপিয়া চাষ বৃদ্ধির কারণে পোনার চাহিদা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশে এখন বাণিজ্যিকভাবে তেলাপিয়ার অনেক খামার গড়ে উঠেছে এবং অনেকেই বিদেশেও এ মাছ রপ্তানী শুরু করেছে। এ মাছ চাষের জন্য বিশুদ্ধ উন্নত জাতের পোনা উৎপাদন একান্ত প্রয়োজন। গিফট জাতের তেলাপিয়ার প্রজনন ও পোনা উৎপাদন পদ্ধতিকে ৩ ভাগে ভাগ করা যায় –
ক) বিশুদ্ধ জাতের ব্রুড মাছ সংগ্রহ ও সংরণ
খ) প্রজনন ও পোনা উৎপাদন
গ) নার্সারী ও আঁতুড় পুকুরে পোনা লালন পালন
২.২ ব্রুডস্টক প্রতিস্থাপন পদ্ধতির মাধ্যমে তেলাপিয়ার জাত উন্নয়ন
বাণিজ্যিক চাষের জন্য বিদ্যমান সব তেলাপিয়ার ক্ষেত্রে একটি অসুবিধার বিষয় হলো এরা পুকুরে দ্রুত প্রজনন পরিপক্কতা লাভ করে এবং ঘন ঘন পোনা উৎপাদনে সম। ফলে একদিকে অতি ঘনত্বের জন্য স্বাভাবিক বৃদ্ধির হার হ্রাস পায় আবার অন্যদিকে ব্র“ডস্টক অব্যবস্থাপনার কারণে অন্ত:প্রজনন জনিত সমস্যার সৃষ্টি হয়। তেলাপিয়ার েেত্র প্রতি জেনারেশন উৎপাদনে সংপ্তি সময়কাল এবং অনিয়ন্ত্রিত প্রজনন ও পোনা উৎপাদন প্রক্রিয়া অন্ত:প্রজনের মাত্রা বৃদ্ধিতে সহায়ক। বিশেষ করে হ্যাচারীতে সীমিত পর্যায়ে পোনা উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় স্বল্প সংখ্যক ব্র“ড মাছের ব্যবহারে এই সমস্যা বেড়ে যায়। অন্ত:প্রজনন সংক্রান্ত ক্ষীণতার (Inbreeding depression) সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো মাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বাঁচার হার হ্রাস, ডিম ধারণ মতার নিুমুখী প্রবণতা এবং বিকলাঙ্গতা ইত্যাদি। এটি নি:সন্দেহে বলা যায় যে ব্রুডস্টকের জেনেটিক অবয়তা তেলাপিয়াসহ অন্যান্য চাষযোগ্য মাছের পোনা উৎপাদনের ক্ষেত্রে বর্তমানে একটি মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা। এই সমস্যার হাত থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় হলো হ্যাচারীতে ব্রুডস্টকের সুষ্ঠু এবং পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার সঠিক বাস্তবায়ন।
tilapia brood stock inbreeding

২.২.১ ব্রুডস্টক প্রতিস্থাপন পদ্ধতি
হ্যাচারীতে প্রজননের জন্য নির্ধারিত স্টকের (reference stock) মাধ্যমে অধিক ফলপ্রসূ পপুলেশনের আকার (effective population) গঠন এবং তার প্রকৃত ব্যবহারই কেবল তেলাপিয়ার সঠিক প্রজনন পরিকল্পনার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারে। এই পরিপ্রেেিত প্রজননের নিয়মাবলী এমনভাবে প্রণয়ন ও প্রয়োগ করতে হবে যাতে প্রত্যেক জোড়া ব্রুডের মধ্যে জেনেটিক ভিন্নতার (Genetic variation) হার হ্রাসের প্রবণতা রোধ করা সম্ভব হয়। একজন তেলাপিয়া অপারেটরকে প্রজনন কাজের জন্য একটি স্ট্যান্ডার্ড স্টক হিসাবে কমপে ৫০০ জোড়া ব্রুড মাছ সংরণ করতে হবে এবং এই ক্ষেত্রে স্ত্রী ও পুরুষ মাছের সংখ্যা সমান হওয়া বাঞ্ছনীয়।  ব্রুডস্টক প্রতিস্থাপন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য একটি সহজ নিয়মাবলী অনুসরণ করতে হবে যেখানে প্রত্যেক জেনারেশন পোনা উৎপাদন কার্যক্রমে প্রতি জোড়া  ব্রুড মাছ শুধুমাত্র একবারই অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। এই ধরনের নিয়মাবলী সংক্ষেপে নিম্নে বর্ণনা করা হলো –

  • পরিচিত ও ভাল উৎস্য থেকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভাল জাতের ফাউন্ডার স্টক সংগ্রহ করে সেগুলো প্রজনন পরিপক্বতা লাভ না করা পর্যন্ত লালন পালন করতে হবে।
  • প্রজনন পরিপক্ক স্ত্রী ও পুরুষ তেলাপিয়াকে তাদের জননেন্দ্রীয় দেখে চেনা যায়। এই রকম অবস্থায় সংগৃহীত ব্রুস্টকগুলোর স্ত্রী ও পুরুষ মাছ আলাদা করে প্রাথমিকভাবে দুটো ৮মি.x২.৫মি.x১মি. সাইজের হাপায় মজুদ করা যেতে পারে।

tilapia male female genital organ

  • ব্রুড মাছ চূড়ান্তভাবে মজুদের আগে কমপে ৮০-১০০টি ১মি.x১মি.x১মি. প্রজনন হাপা তৈরি করে একটি পুকুরে সারিবদ্ধভাবে স্থাপন করে নিতে হবে। তবে হাপার আকার বড়ও হতে পারে ।
  • পরবর্তীতে প্রত্যেক প্রজনন হাপায় একটি স্ত্রী ও একটি পুরুষ তেলাপিয়া স্থানান্তর করার ব্যবস্থা নিতে হবে। এই সময় থেকে ব্রুড মাছগুলোকে দৈনিক এদের শারীরিক ওজনের ২-৩% হারে সম্পূরক খাবার প্রয়োগ করা যেতে পারে।
  • ১০-১৫ দিন অন্তর অন্তর প্রত্যেক প্রজনন হাপায় সংরতি ব্রুড মাছ বিশেষ করে স্ত্রী মাছের মুখ থেকে নিষিক্ত ডিম/লার্ভি সংগ্রহের উদ্যোগ নিতে হবে।
    প্রত্যেক প্রজনন হাপায় স্ত্রী মাছের মুখ থেকে সংগৃহীত ডিম/লার্ভি আলাদা আলাদা ইনকুবেশন জারে ফুটানোর জন্য প্রেরণ করতে হবে।
  • পোনা ফুটার পর পরই তাদেরকে আলাদা আলাদা ট্রেতে মজুদ করে পরিচর্যার ব্যবস্থা নিতে হবে। যদি হ্যাচারীতে জার এবং ট্রে’র ব্যবস্থা না থাকে সেক্ষেত্রে হাপায় সংরতি স্ত্রী মাছের মুখ থেকে ডিম/লার্ভি সংগ্রহ না করে প্রাকৃতিকভাবেই সেখানে পোনা নির্দিষ্ট একটি সাইজে না পৌঁছানো পর্যন্ত রেখে দিতে হবে।
  • পরবর্তীতে প্রত্যেক প্রজনন হাপা থেকে সংগৃহীত বা উৎপাদিত পোনার লট থেকে কমপে ২০০ পোনা সংগ্রহ করে অন্য পুকুরে স্থাপিত ১মি.x১মি.x১মি. সাইজের নার্সারি হাপার সিরিজে আলাদাভাবে মজুদ করতে হবে।
  • নার্সারি হাপায় পোনার শারীরিক ওজন গড়ে ৩০-৪০ গ্রাম হওয়ার পর পরই এদের সংখ্যা কমিয়ে প্রতি ঘনমিটারে ৪০-৫০টি করে প্রতিপালন করে যেতে হবে।
  • হাপায় রতি তেলাপিয়ার জননেন্দ্রীয় দেখে স্ত্রী ও পুরুষ মাছ শনাক্ত করার সময় হলেই প্রত্যেক প্রজনন হাপা থেকে ৫টি স্ত্রী ও ৫টি পুরুষ মাছ বাছাই করে প্রজননের জন্য নির্ধারিত ষ্টক (Reference stock) হিসাবে ব্রুডস্টক প্রতিস্থাপনের জন্য একটি পুকুরে মজুদ করার ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে।
  • এইভাবে প্রত্যেক হাপায় প্রতি জোড়া তেলাপিয়ার ব্রুড থেকে সংগৃহীত সমান সংখ্যক স্ত্রী ও পুরুষ মাছের সমন্বয়ে গঠিত সুষম ব্রুডস্টক প্রতিস্থাপন ব্যবস্থাই কেবল একটি ফলপ্রসূ পপুলেশনের আকার নিশ্চিত করতে পারে।

২.২.২ তেলাপিয়ার প্রজনন পরিকল্পনা এবং জেনেটিক স্টক উন্নয়ন
বর্তমানে তেলাপিয়াসহ অন্যান্য কতিপয় চাষযোগ্য মাছের জাত উন্নয়নের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কিছু অগ্রসরমান জেনেটিক প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়ে আসছে যেমন- ক) ক্রমোজম ম্যানিপুলেশন, খ) হাইব্রিডাইজেশন, গ) ক্রস ব্রিডিং, ঘ) সেক্স রিভারসাল, ঙ) জীন ট্রান্সফার, চ) সিলেকটিভ ব্রিডিং ইত্যাদি। তন্মধ্যে সিলেকটিভ ব্রিডিং ছাড়া এখন পর্যন্ত আর কোন পদ্ধতিই মাছের ক্রম জাত উন্নয়নে তেমন কার্যকর নয় বলে প্রমাণিত হয়েছে। তেলাপিয়ার উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জাত উন্নয়নের জন্য সিলেকটিভ ব্রিডিং হলো একটি সহজ অথচ দীর্ঘমেয়াদি চলমান পদ্ধতি। একটি সুপরিকল্পিত ডিজাইনের সিলেকটিভ ব্রিডিং কর্মসূচি প্রয়োগের মাধ্যমে ব্রুড মাছের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বংশ তালিকার (Pedigree) ধারাবাহিকতা রাসহ অন্ত:প্রজনন জনিত সমস্যা নিরসন সম্ভব। তেলাপিয়া হ্যাচারী অপারেটরগণ এই অধ্যায়ে বর্ণিত ব্রুডস্টক প্রতিস্থাপন পদ্ধতি প্রয়োগ করে উন্নত ব্রুডজাত সংগ্রহ পূর্বক সেগুলো প্রজননের কাজে ব্যবহার করতে পারেন। যদি ব্রুডস্টক প্রতিস্থাপনের সাথে সিলেকটিভ ব্রিডিং পদ্ধতি সংযুক্ত করা যায় তা হলে কাঙ্খিত গুণাগুণ এবং উচ্চ জেনেটিক ভিন্নতার হার সম্বলিত জাত উন্নয়নের জন্য হবে সেটি এক বিস্ময়কর ব্যাপার। সমন্বিত এইসব পদ্ধতি প্রয়োগে প্রতি জেনারেশনে উন্নত গুণাবলী সম্পন্ন তেলাপিয়ার জাত উৎপাদন সম্ভব হলে-সেসব জাত নিঃসন্দেহে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত (Heritability) ভাল বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং জেনেটিক ভিন্নতার হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে তথা অন্তঃপ্রজনন সংক্রান্ত ক্ষীণতার মাত্রা সর্বনিম্নপর্যায়ে ধারণ করার সামর্থ লাভ করবে । এইসব জাতের ব্রুড মাছ, পোনা এবং চাষে ব্যবহৃত তেলাপিয়ার বেলায় অধিক বৃদ্ধির হার, ডিম ধারণ মতা, বাঁচার হার এবং রোগ প্রতিরোধ সমতা উন্নয়নে সুফল বয়ে আনবে।

২.২.৩ প্রারম্ভিক পপুলেশন গঠন
এখানে এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে পরিকল্পিত সিলেকটিভ ব্রিডিং পদ্ধতি প্রয়োগ করে যদি ব্রুডস্টক উৎপাদন করা যায় তাহলে প্রত্যেক জেনারেশনেই জেনেটিক গুণাগুণ অর্জনের সম্ভাবনা থাকে। প্রারম্ভিক পপুলেশনের সংযোজিত জেনেটিক ভিন্নতার উপরই এই প্রক্রিয়ার সাফল্য নির্ভরশীল। তাই হ্যাচারীতে প্রারম্ভিক পপুলেশন গঠন করার জন্য প্রজনন কাজে নির্ধারিত স্টকের সমন্বয়ে তৈরি অধিক সংখ্যক ফলপ্রসূ পপুলেশনের আকার থাকা আবশ্যক। সিলেকশন কর্মসূচি শুরু করার পূর্বে সুষম সমৃদ্ধ এবং উচ্চ জেনেটিক বৈশিষ্ট্যাবলী সম্পন্ন ব্রিডিং পপুলেশন বা প্রজনন কাজে ব্যবহৃত হবে এমন স্টক তৈরি করাই হবে এর মূল লক্ষ্য।

২.২.৪ সিলেকশন পদ্ধতি
তেলাপিয়ার ক্ষেত্রে তিন ধরনের সিলেকশন পদ্ধতি যেমন-ক) ম্যাস সিলেকশন (mass selection), খ) ফেমিলি সিলেকশন (family selection) এবং গ) কম্বাইন্ড সিলেকশন (combined selection) এর মধ্যে যে কোন একটি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ম্যাস সিলেকশন পদ্ধতিটি তুলনামূলকভাবে সহজ এবং কার্যকর বিধায় এটি তেলাপিয়ার জেনেটিক জাত উন্নয়নে প্রাথমিকভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। নিম্মে এই পদ্ধতি বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হলো।
ম্যাস সিলেকশন: ম্যাস সিলেকশন সাধারণত কোন জীবন্ত মাছের শারীরিক বৈশিষ্ট্যাবলী যেমন-দৈহিক বর্ধন, গঠন এবং গায়ের রঙ উন্নয়নে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ব্রুডস্টক সিলেকশনে এই পদ্ধতি প্রয়োগের ফলে উৎপাদিত প্রজন্মে কাঙ্খিত জীনের বৈশিষ্টাবলী ক্রম পুঞ্জিবিত হয়ে জেনেটিক জাত উন্নয়নে অত্যন্ত সহায়ক বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন। অনেক মাছে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করে দেখা যায় যে প্রতি জেনারেশনে শারীরিক ওজনের জেনেটিক গুণাগুণ অর্জনের হার দাঁড়ায় ১৫% থেকে ১৭%। পাঁচ জেনারেশন সিলেকশনে গিফট জাতের তেলাপিয়া বৃদ্ধির হার পাওয়া গিয়েছে গড়ে ১৫%। তেমনি করে রাজপুঁটির দুই জেনারেশন সিলেকশনে গড়ে প্রতি জেনারেশনে ৭.২% শারীরিক ওজন বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে। হ্যাচারী অপারেটরদের জন্য এই পদ্ধতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো প্রতি জেনারেশনে কমপে ৫% থেকে ১০% সবচেয়ে ভাল ব্রুড মাছ বাছাই করে প্রজনন কাজে ব্যবহার করা। ম্যাস সিলেকশনে সাধারণত বলিষ্ঠ এবং আকারে সবচেয়ে বড় ওজনের মাছ নির্বাচন করা হয়ে থাকে। অনেক বিজ্ঞানীই মনে করেন যে দীর্ঘদিন ম্যাস সিলেকশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হলে এক পর্যায়ে মাছের জেনেটিক ভিন্নতার হার হ্রাস এবং অন্তঃপ্রজনন সংক্রান্ত ক্ষীণতার মাত্রা বৃদ্ধি পেতে থাকে। সে ক্ষেত্রে ফেমিলি সিলেকশন বা কম্বাইন্ড সিলেকশন পদ্ধতি প্রয়োগ করাই সঠিক বলে বিজ্ঞানীরা পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

২.৩ বিশুদ্ধ জাতের ব্রুড মাছ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ
পোনা উৎপাদনের জন্য ৩০-৫০ গ্রাম ওজনের সুস্থ ও সবল GIFT জাতের ব্রুড বিএফআরআই যে কোন কেন্দ্র থেকে বা নির্বাচিত সরকারী/বেসরকারী মৎস্য খামার হতে সংগ্রহ করে ছোট পুকুরে (১০-১৫ শতাংশে) প্রতি শতাংশে ৭০-৮০টি হারে মজুদ করে ১-২ মাস যত্ন নেয়া যেতে পারে।

২.৪ প্রজনন ও পোনা উৎপাদন

  • প্রজনন পুকুর ১০-৩০ শতাংশে হলেই ভালো হয়। পুকুরে পাড়ের ঢাল যাতে ১:৩ অনুপাতে নির্মিত হয় সেদিকে দৃষ্টি রাখা দরকার। পাড়ের শীর্ষ দেশের বিস্তৃতি ১.০-১.৫ মিটার হলেই ভাল হয়। কেননা তেলাপিয়া মাছ প্রজননের জন্যে সাধারণত পাড়ের ঢালু অংশই বেশী পছন্দ করে। পুরুষ তেলাপিয়া প্রজননকালীন সময়ে গর্ত করে ডিম পাড়ার জন্যে বাসা তৈরী করে থাকে।
  • এ রকম আয়তনের পুরাতন পুকুর হলে তা পানি নিষ্কাশন করে শুকিয়ে নিতে হবে। পুকুরের যাবতীয় রাুসে মাছ ও অন্যান্য রাুসে প্রাণী নির্মুল করতে হবে । পানি নিষ্কাশন সম্ভব না হলে মিহি ফাঁসের টানা জালের সাহায্যে এ ধরনের অবাঞ্ছিত প্রাণী দূর করে ফেলা দরকার।
  • এর পর পুকুরের তলদেশে পরিমান মতো চুন ও সার প্রয়োগ করতে হবে। নতুন খননকৃত পুকুরের বেলায় শতাংশে ১.০ কেজি চুন ব্যবহার করা উচিত। কাদাযুক্ত মাটিতে চুনের পরিমান কম থাকে বলে তাতে চুন বেশী লাগে। দো-আঁশ ও বেলে মাটির পুকুরে কম পরিমানে চুন ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • চুন প্রয়োগের এক সপ্তাহ পরে জৈব ও অজৈব সার যেমন – গোবর শতাংশে ৬-৮ কেজি এবং ইউরিয়া ও টিএসপি প্রতি শতাংশে যথাক্রমে ১০০ গ্রাম ও ১০০ গ্রাম হারে ভালভাবে মিশিয়ে পুকুরে প্রয়াগ করতে হবে।
  • পুকুরের তলদেশে ভালভাবে তৈরী হওয়ার পর সেচ যন্ত্রের সাহায্যে পরিমান মত ভূ-উপরিস্থ বা ভূ-গর্ভস্থ পরিস্কার পানি দিয়ে ভরানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পানির গভীরতা ১ মিটার রাখা আবশ্যক।
  • সার প্রয়োগের ৩-৪ দিনের মধ্যে পানির যখন সবুজ বর্ণ ধারণ করতে শুরু করবে তখন পুকুরটি ব্রুড মাছ মজুদের উপযোগী ধরে নিতে হবে। প্রজনন পুকুরে সার্বিক পরিবেশ যেমন –

তাপমাত্রা ২৫-২৯°সে
অক্সিজেন ৪-৮ মি.গ্রা./লিটার
পিএইচ ৭-৯
লবণাক্ততা ৩-৫ পিপিটি

ইত্যাদি বৈশিষ্টাবলীর উপর একান্তভাবে নির্ভরশীল ।

  • এভাবে তৈরিকৃত পুকুরে সুস্থ, সবল ও প্রজনন পরিপক্ক ব্রুড মাছ প্রতি শতাংশে ৪০-৬০টি মজুদ করা যেতে পারে।
  • পুরুষ ও স্ত্রী মাছের মজুদের অনুপাত ১ ঃ ৩ হওয়া বাঞ্ছনীয়। পরিপক্ক পুরুষ ও স্ত্রী মাছের জননেন্দ্রিয় (genital organs) পরীক্ষা করে সহজেই এদের স্ত্রী-পুরুষ পৃথক করা যায়। পুরুষ মাছের জননেন্দ্রিয় দুই ছিদ্র সম্পন্ন, সাদা ও লম্বাটে হয়ে থাকে এবং স্ত্রী মাছের বেলায় তা তিন ছিদ্র সম্পন্ন ও লালচে রং এর দেখায়।

২.৫ ব্রুড ব্যবস্থাপনা

  •  ব্রুডমাছের খাবার হিসাবে ২৫-২৮% প্রোটিন সমৃদ্ধ সম্পূরক খাদ্য মাছের দেহের ওজনের শতকরা ৩-৪ ভাগ হারে দিনে দুই বার সকালে ও বিকেলে সরবরাহ করতে হবে।
  • পুকুরে প্রাথমিক খাদ্য উৎপাদনের জন্য ১০-১৫ দিন অন্তর অন্তর প্রতি শতাংশে ৪-৬ কেজি হারে গোবর ছিটিয়ে দিতে হবে।
  • ব্রুড মাছ মজুদ করার ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে সাধারণত পুকুরের কিনারে ছোট ছোট রেণুর ঝাঁক চোখে পড়বে। মশারীর কাপড়ের তৈরী জাল দিয়ে প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে রেণুপোনাগুলো ধরে নার্সারী বা আঁতুর পুকুরে মজুদ করার ব্যবস্থা নিতে হবে।

২.৬ পরামর্শ
গিফট তেলাপিয়ার পোনা উৎপাদনের জন্য নিুলিখিত বিষয়ের দিকে ল্য রাখতে হবে –

  • প্রজনন পুকুরে স্ত্রী ও পুরুষ মাছের অনুপাত সঠিক হারে হতে হবে (১ ঃ ৩) ।
  • প্রতি ১০ দিন অন্তর অন্তর মিহি ফাঁসের জাল টেনে রেণু পোনা সরাতে হয়, না হলে পুকুরে পোনার ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • রেণুপোনা সরানোর কাজ খুব ভোরে করা উচিত।
  • গিফট তেলাপিয়ার সাথে স্থানীয় জাতের তেলাপিয়ার যাতে মিশ্রণ না ঘাটে সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।
  • পোনা উৎপাদন পুকুর সব সময় পরিস্কার ও এতে প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

৩. গিফট তেলাপিয়ার মনোসেক্স জাতের পোনা উৎপাদনে হ্যাচারী ব্যবস্থাপনা
৩.১ হ্যাচারীর স্থান নির্বাচন
গিফট তেলাপিয়ার মনোসেক্স পোনা উৎপাদন হ্যাচারীর স্থান নির্বাচনে নিুের বিষয়গুলো ভালভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন –

  • হ্যাচারীর স্থান বন্যা মুক্ত হতে হবে।
  • পর্যাপ্ত পানি সরবরাহের ব্যবস্থা থাকতে হবে (ভূ-গর্ভস্থ/উপরিভাগের পানির উৎস হতে পারে)।
  • পুকুরের মাটি বেলে-দোঁ আশ হতে হবে।
  • হ্যাচারীর সাথে ভাল সড়ক যোগাযোগ থাকতে হবে।
  • স্থায়ী বিদ্যুৎ ব্যবস্থা থাকতে হবে।
  • পোনা বিক্রির জন্য ভাল বাজার বা বিপণনের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

৩.২ তেলাপিয়া হ্যাচারী কমপ্লেক্সের নির্মাণ
ডিম ফুটানো, হ্যাচিং এবং নার্সিং ইত্যাদি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তেলাপিয়া হ্যাচারীর প্রধান ও কার্যকারী উপাদানগুলো নিম্নরূপ –

  • হ্যাচারীর ছাউনি লোহার অ্যাংগেল দিয়ে তৈরি যা সিআই সিট দিয়ে আবৃত।
  • সিমেন্টের মেঝে।
  • ডিম ফুটানোর জন্য জার এবং হাতলসহ ট্রে ।
  • পুনঃসঞ্চালন পানির প্রবাহ।
  • পানি সরবরাহের লাইন (অন্তর্মুখী ও বহির্মুখী)।
  • পানির পাম্প ।
  • ১০,০০০-২০,০০০ লিটার মতাসম্পন্ন ওভার হেড পানির ট্যাংক।
  • খাবার প্রস্তুত এবং সংরক্ষণ রুম।
  • স্বল্পস্থায়ী নার্সিং ট্যাঙ্ক।
  • হরমোন ট্রিটমেন্টের জন্য নার্সারি পুকুর।
  • হ্যাচারীতে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা।

৩.৩ হ্যাচারীর প্রয়োজনীয় উপাদানসমূহ

  • হেডার ট্যাংকঃ জার এবং ট্রেতে প্রয়োজনীয় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য হেডার ট্যাংকে মজুদ রাখা হয়।
  • ইনকিউবেশন জারঃ নিষিক্ত ডিম হ্যাচিং এর জন্য ইনকিউবেশন জারে রাখা হয়।
  • নার্সিং ট্রেঃ সদ্য ফুটা লার্ভিকে নার্সিং এর জন্য এই ট্রেতে রাখা হয়।
  • ফিল্টার চেম্বারঃ ইনকিউবেশন জার এবং ট্রেতে ব্যবহৃত পানি এই চেম্বারের মাধ্যমে ফিল্টার করা হয়।
  • বায়োবল চেম্বারঃ ফিল্টার করা পানি বায়োবল চেম্বারের মাধ্যমে বিশুদ্ধ হয়ে প্রবাহিত হয়।
  • ওয়েস্টার সেলঃ ফিল্টার ও বায়োবল চেম্বারের পানি এই চেম্বারে পুনরায় বিশুদ্ধ হয়।
  • মজুদ ট্যাংকঃ এই চেম্বারে বিশুদ্ধ পানি মজুদ থাকে এবং তা সাব-মারসিবল পাম্পের মাধ্যমে ওভার হেড ট্যাংকে স্থানান্তরিত হয়।

৩.৪ হ্যাচারীর ছাউনি এবং সিমেন্টের মেঝে নির্মাণ
মাঝারি আকারের তেলাপিয়া হ্যাচারী নির্মাণের জন্য নিম্নের উপাদানগুলো গুরুত্বপূর্ণ –

  • হ্যাচারীর ছাউনির গঠনঃ ৮০.২৫ বর্গমিটার (১১.৫মি.x৭মি.)।
  • সিমেন্টের মেঝেঃ ৭৭ বর্গমিটার (১১মি.x৭মি.)।
  • বিম ও কলাম ।
  • এম এস এঙ্গেল ট্রাস।
  • সিআই সিটের ছাদ।

৩.৫ ইনকিউবেশন জার এবং ট্রে স্থাপন
প্লাস্টিক কন্টেনারের সাথে প্রয়োজনুসারে হ্যাচিং জার ও ট্রে হ্যাচারীর ভিতরে ঠিকভাবে স্থাপন করতে হবে।

  • ৬-৭ লিটার মতাসম্পন্ন জার – ৩০টি।
  • ট্রের সংখ্যা – ৬০টি (প্রতিটি ২৮ সে.মি.x ৪৩ সে.মি.x১০ সে.মি.)।
  • ট্রে স্থাপনের জন্য প্লাস্টিক কন্টেনারের সংখ্যা – ৩০টি (প্রতিটি ৩০ সে.মি.x১২০সে.মি.x২০ সে.মি.)।
  • ইস্পাত অথবা লোহা অথবা কাঠের স্ট্যান্ড – ১৫টি।

৩.৬ প্রজনন পুকুর নির্মাণ
প্রজনন পুকুরের জন্য ০.৪ হেক্টরের কমপক্ষে ১.৫-২.০ মিটার গভীরতার কমপে ৩টি পুকুর পরিকল্পনা মাফিক তৈরি করতে হবে। পানি সরবরাহ এবং নির্গমনের জন্য ২টি মঙ্ক বা পার্শ্বপথসহ পুকুরগুলো আয়তকার হতে হবে।

৩.৭ প্রজনন হাপা তৈরি ও স্থাপন
প্রজনন হাপা তৈরির জন্য পলিইথিলিন অথবা নাইলন জালের কাপড় স্থানীয় বাজার থেকে ক্রয় করে দর্জির দোকানে আয়তাকার (২০মি.x৫মি.x১.৫মি.) আকারের হাপা তৈরি করা প্রয়োজন। প্রতিটি প্রজনন পুকুরে আয়তন অনুযায়ী হাপার সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়ে থাকে । ক্স খুব সর্তকতার সাথে হাপা স্থাপন করতে হবে যাতে হাপাতে কোন ছিদ্র না থাকে। বাঁশের অথবা কাঠের অথবা লোহার খুঁটির মাধ্যমে হাপা স্থাপন করতে হবে। হাপাতে পানি সঞ্চালনের জন্য ০.৫-১.০ মিটার গভীরতায় স্থাপন করা হয়। হাপার উপরের অংশ পানির স্তর থেকে ৫০-৬০ সে.মি. উপরে রাখা হয়। হাপা খুব ভালভাবে বাঁধতে হবে যাতে বাতাসের চাপে হাপা ভাঁজ না হয়ে যায়।

৩.৮ প্রজননম মাছ বাছাই এবং প্রজনন হাপাতে মজুদকরণ
হাপার আকারের উপর প্রজননম মাছের মজুদ ঘনত্ব নির্ভরশীল। হাপায় উন্নত জাতের প্রজননম ১০০-১৫০ গ্রাম ওজনের তেলাপিয়া প্রতি বর্গমিটারে ৪-৬টি মজুদ করতে হবে। জানা উৎস্য থেকে সংগৃহীত অথবা ইতোপূর্বে ব্রুড পুকুরে লালন-পালন করা হয়েছে এমন স্টক থেকে পুরুষ ও স্ত্রী মাছ ১ঃ৩ অনুপাতে হাপায় মজুদ করা হয়। প্রজনন হাপায় ৩০% প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার ব্রুড মাছের ওজনের ৩-৪% দৈনিক ২ বার সরবরাহ করতে হবে।

৩.৯ মাছের মুখ থেকে নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ
পুকুরে পরিপক্ব স্ত্রী মাছ সাধারণত ২-৩ সপ্তাহ অন্তর ডিম দিয়ে থাকে। পর্যায়ক্রমে পুরুষ মাছ ডিমগুলোকে নিষিক্ত করে এবং প্রাকৃতিকভাবে স্ত্রী মাছ মুখে নিষিক্ত ডিম ধারণ করে। সুতরাং ডিম সংগ্রহের জন্য প্রত্যেক হাপাতে মজুদকৃত স্ত্রী মাছের মুখ সপ্তাহে ১ বা ২ বার সর্তকতার সাথে পরীা করে দেখতে হবে। ডিম সংগ্রহের পদ্ধতি নিম্নে বর্ণনা করা হল।

  • প্রজননম স্ত্রী মাছ হাপার এক জায়গায় জমা করে ভালভাবে পরীক্ষা করতে হবে।
  • নিষিক্ত ডিম অথবা লার্ভি হাপা হতে সংগ্রহ করার জন্য অন্তত ২-৩ জন শ্রমিক দরকার হয়।
  • নিষিক্ত ডিম অথবা লার্ভি মুখে আছে কিনা তা দেখার জন্য প্রত্যেক প্রজননম স্ত্রী মাছ স্কুপ নেটের সাহায্যে সংগ্রহ করে ভালভাবে পরীক্ষা করতে হয়।
  • নিষিক্ত ডিম স্ত্রী মাছের মুখ থেকে সংগ্রহ করা হয় এবং রঙ এর ভিন্নতা অনুসারে আলাদা করে রাখা হয়। সাধারণত চার রঙ এর ডিম মাছের মুখ থেকে সংগ্রহ করে প্লাস্টিক গামলায় রাখা হয় (সাদাটে, হালকা হলুদ, গাড় হলুদ এবং লালচে)। প্লাস্টিক গামলাগুলো ইস্পাত/লোহা অথবা বাঁশের ফ্রেমের উপর ভাসিয়ে রাখা হয়।
  • সংগৃহীত ডিমগুলো জীবাণুমুক্ত করতে ০.৯% লবণ দ্রবণে রেখে ৮-১০ মিনিট কক্ষ তাপমাত্রায় রাখা হয়।
  • এই অবস্থায় সংগৃহীত নিষিক্ত ডিম/লার্ভি হ্যাচিং এর জন্য হ্যাচারীতে স্থানান্তর করা হয়।

৩.১০ জার/ট্রেতে সংগৃহীত ডিম অথবা লার্ভি ফুটানো
নিষিক্ত ডিম/লার্ভি স্ত্রী মাছের মুখ থেকে সংগ্রহ করে গোলাকার প্লাস্টিক জার এবং সমতল ট্রেতে রেখে পানির পুনঃসঞ্চালন পদ্ধতিতে ফুটানো হয়ে থাকে, যেখানে স্বচ্ছ পানি (তাপমাত্রা ২৮º সেলসিয়াস) ওভাহেড ট্যাঙ্ক থেকে সরাসরি সঞ্চালিত হয়। ডিম ফুটার পর পূর্ণাঙ্গ লার্ভিসমূহ ট্রেতে স্থানান্তর করা হয়। যতক্ষণ না পর্যন্ত লার্ভির ডিম্বথলি নিঃশেষিত হয় ততণ এই ট্রেতেই ক্ষুদে পোনাগুলো মজুত থাকে। নিষিক্ত ডিম হতে ভ্রুণ এবং লার্ভাল অবস্থা শেষ হতে গড়ে প্রায় ১০-১২ দিন সময় লাগে।

৩.১১ জারে ডিম ফুটানোর জন্য নিষিক্ত ডিম মজুদ

  • জারে আনুমানিক ডিমের সংখ্যা ঃ ৪-৫ হাজার।
  • হ্যাচিং সময়কাল ঃ ৬৫-৭২ ঘণ্টা।
  • প্রতি ট্রেতে লার্ভির সংখ্যা ঃ ৩-৫ হাজার

৩.১২ এন্ড্রোজেন হরমোন মিশ্রিত খাবার প্রস্তুত, মজুদ এবং প্রয়োগ

৩.১২.১ মজুদ দ্রবণ (stock solution) ব্যবহার করে হরমোন মিশ্রিত খাবার তৈরি

  • ৫.০ গ্রাম ১৭-∝-মিথাইল টেস্টোস্টেরণ, ১ লিটার ইথানলের (৯৯%) সাথে দ্রবীভূত করে মজুদ দ্রবণ তৈরি করা হয়।
  • ১ কেজি মিহি খাবার একটা শুষ্ক পাত্রে রাখা হয়।
  • পরে ১০ মি.লি. মজুদ দ্রবণ পুনরায় ১০০ মি.লি. ইথানলের সাথে মিশাতে হবে।
  • এই দ্রবণটি ধীরে ধীরে খাবারের সাথে সংমিশ্রণ করে হরমোন মিশ্রিত খাবার তৈরি করা যায়।
  • প্রস্তুতকৃত খাবার ১০-১৫ মিনিট ধরে সাধারণ তাপমাত্রায় শুকিয়ে সরাসরি তেলাপিয়ার মনোসেক্স পোনা উৎপাদন কার্যক্রমে ব্যবহার করা হয়।

৩.১২.২ হরমোন মিশ্রিত খাবার তৈরী
হরমোন মাত্রা – ৬০ মিলিগ্রাম ১৭-∝-মিথাইল টেস্টোস্টেরণ, ১০০ মি.লি. ইথাইল অ্যালকোহলের (৯৫%) সাথে দ্রবীভূত করা হয়।

  • হরমোন দ্রবণ এক কেজি পাউডার খাবারের (৫০% সাধারণ খাবার + ৫০% ফিসমিল) সাথে ১০-১৫ মিনিট সময় ধরে মিশাতে হবে।
  • তৈরিকৃত খাবার পরে সাধারণ তাপমাত্রায় শুকানো হয়।
  • হরমোন মিশ্রিত শুষ্ক খাবার কম তাপমাত্রায় অথবা ৪º সে. তাপমাত্রায় রেফ্রিজারেটরে সর্বোচ্চ ৭ দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যাবে।

 

৩.১২.৩ ক্ষণস্থায়ী ট্যাঙ্কে প্রথম খাবার গ্রহণের উপযোগী পোনাকে হরমোন মিশ্রিত খাবার প্রয়োগ
ক্ষণস্থায়ী ট্যাঙ্কে প্রথম খাবার গ্রহণের উপযোগী পোনাকে হরমোন মিশ্রিত খাবার প্রয়োগের কৌশল নিম্নরুপ।

  • ট্যাঙ্কের আকার – ১৭ মি.x৩ মি.x০.৭৫ মি.।
  • ট্যাঙ্কের সংখ্যা – ৪টি।
  • মিহি ফাঁশের জাল দ্বারা আবৃত।
  • হাপার আকার – ৮ মি.x২.৫ মি.x০.৬ মি.।
  • প্রতি ট্যাঙ্কে হাপার সংখ্যা – ২টি।
  • প্রতি হাপাতে প্রথম খাবার গ্রহণযোগ্য পোনার সংখ্যা – ১,৫০,০০০।
  • ট্যাঙ্কে পানির উচ্চতা – ৬০ সে.মি.।

এই সকল হাপাতে হরমোন মিশ্রিত খাবার প্রয়োগ করা হয়।

  • খাবার প্রয়োগ মাত্রা – পরিতৃপ্ত অবস্থা পর্যন্ত।
  • খাবার প্রয়োগ – দিনে ৩ বার।
  • হরমোন মিশ্রিত খাবারের স্থায়ীত্বকাল – ৩ দিন।
  • নিয়মিত ঠান্ডা স্বাদুপানি পরিবর্তন করে এই ট্যাঙ্কের পানির গুণাগুণ রক্ষা করা হয়।
  • ক্ষণস্থায়ী ট্যাঙ্কে অবস্থান কালে ক্ষুদে পোনাকে তাদের সংখ্যা গণনা করে নার্সারি হাপাতে স্থানান্তর করা হয়।

৩.১২.৪ নার্সারি হাপাতে ক্ষুদে পোনাকে হরমোন মিশ্রিত খাবার প্রয়োগ
নার্সারি হাপা স্থাপনের জন্য ০.৪ হেক্টর আয়তনের একটি পুকুর নির্মাণ করতে হবে। পুকুরটি হবে আয়তকার এবং পানি আগমন ও নির্গমনের দুটি পার্শ্বপথ যুক্ত। পুকুরের গভীরতা ১.৫-২.০ মিটার হওয়া বাঞ্ছনীয়। বাঁশের খুঁটি এবং নাইলনের দড়ির সাহায্যে হাপা স্থাপন করা হয়।
মনোসেক্স পোনা উৎপাদনের জন্য খাবার প্রয়োগ পদ্ধতির সংক্ষিপ্ত বর্ণনা –

  • হাপার আকার – দৈর্ঘ্য ৮মি.xপ্রস্থ ২.৫মি.x০.৭৫মি.।
  • হাপার সংখ্যা – ২৫টি।
  • হাপতে ক্ষুদে পোনার মজুদ ঘনত্ব – ২০০০/ঘন মিটার।
  • মজুদকৃত পোনার মোট সংখ্যা – প্রায় ২.৫ মিলিয়ন।
  • খাবার প্রয়োগ মাত্রা – দেহের ওজনের ২০-৫০%।

tilapia feeding rate

  • প্রতিদিন ৪-৬ বার খাদ্য প্রয়োগ করতে হবে ।
  • হরমোন মিশ্রিত খাবার খাওয়ানোর স্থায়ীত্বকাল – ১৮-২১ দিন।
  • মনোসেক্স পুরুষ জাতের পোনা উৎপাদন – প্রতি মাসে প্রায় ২.০ মিলিয়ন।
  • নিয়মিত পানি পরিবর্তন করে, পুকুরে অবস্থিত নার্সারি হাপার পানির গুণাগুণ ঠিক রাখা হয় (তাপমাত্রা ২৪-২৯º সেলসিয়াস)।

৩.১৩ বিক্রয়ের জন্য মনোসেক্স পোনা মজুদ ও লালন
হরমোন মিশ্রিত খাবার ক্ষুদে পোনাকে ২১ দিন প্রয়োগের পর ৯৮-১০০% লিঙ্গ রূপান্তরিত মনোসেক্স পুরুষ পোনা প্রাপ্তির আশা করা যায়। এই অবস্থায় সাধারণ খাবার প্রয়োগ করে পৃথক পৃথক হাপায় বিক্রয়ের জন্য পোনা মজুতকরণ ও লালনের বিষয়ে নিম্নে বর্ণনা করা হলো ঃ

  • হাপার সাইজ – ৮মি.x২.৫মি.x০.৮মি.।
  • মজুদ – ২১-২৪ দিন বয়সের পোনা।
  • মজুদ ঘনত্ব – ৪০০-৬০০ / ঘন মিটার।
  • লালন কাল – ১-২ সপ্তাহ।

৩.১৪ তেলাপিয়া পোনার লিঙ্গ সনাক্তকরণ কৌশল
তেলাপিয়ার পোনা ২০-৩০ গ্রাম ওজনের হলে সহজেই জননেন্দ্রিয় পর্যবেণ করে এদের লিঙ্গ শনাক্ত করা যায়। কিন্তু পোনার ওজন ২ গ্রামের কম হলে জননেন্দ্রিয় পর্যবেণ করে লিঙ্গ সনাক্ত করা যায় না। তবে এসিটোকারমিন স্কোয়াস পদ্ধতিতে লিঙ্গ সনাক্তকরণ করা সম্ভব। তেলাপিয়া পোনার লিঙ্গ সনাক্তকরণের প্রণালী নিম্নে দেখানো হয়েছে।

  • কিছু পোনার নমুনাকে ধারালো কাঁচির সাহায্যে ব্যবচ্ছেদ করা হয়।
  • উদর গহ্বরের উপরের দিকে অবস্থিত সুতার ন্যায় গোনাড ফরসেপ দিয়ে বের করা হয়।
  • সংগৃহীত গোনাড গ্লাস স্লাইডে স্থাপন করে ১ ফোটা এসিটোকারমিন দ্রবণ দিতে হবে। তারপরে কভার স্লিপ দিয়ে ঢেকে দিতে হয়।
  • এর পরে গোনাডকে মাইক্রোস্কোপে পর্যবেণ করতে হবে।
  • পুরুষ গোনাড দেখতে সূ দানার ন্যায় এবং স্ত্রী গোনাড দেখতে জালের মত।

৩.১৫ তেলাপিয়ার পোনা পরিবহণ
পোনা পরিবহনের বিষয়টি আপত দৃষ্টিতে খুব সহজ মনে হলেও এ ব্যাপারে অনেকেই ভুল করে তিগ্রস্থ হয়ে থাকে। পোনা পরিবহনের সাথে পোনা ধরা ও খাপ খাওয়ানোর বিষয়টিও জড়িত। ঘন ফাঁসের নরম জাল দিয়ে পোনা ধরা উচিৎ । খুব ভোরে বা বিকালে পোনা ধরা উচিৎ যখন পানির তাপমাত্রা কম থাকে। দুপুর বেলায় পোনা ধরা উচিৎ নয়। প্রতিদিন একই পুকুর হতে পোনা ধরা যাবে না। একই পুকুর হতে প্রতিদিন পোনা ধরলে পোনা দুর্বল হয়ে যাবে। খুব সকালে বা বিকালে চাহিদা অনুযায়ী পোনা মাছ ধরে ট্যাংকে ডিপ টিউবেলের পানিতে ৫-৬ ঘন্টা রেখে দিলে পোনার পেট খাবার শূন্য হয়ে যায়। এ সময় ট্যাংকে পানির ঝর্ণার ব্যবস্থা থাকতে হবে। পোনার পেট খালি হলে পরিবহনকালীন সময়ে পানি দুষিত হয় না, পোনাদের একত্রে থাকার অভ্যাস গড়ে উঠে এবং মাছের মৃত্যু কম হয়ে থাকে।
৩.১৫.১ পোনা পরিবহন পদ্ধতি
পলিথিন ব্যাগে অক্সিজেন গ্যাস ভরে সকালে বা বিকালে পোনা পরিবহন করতে হবে। অক্সিজেন ব্যাগে ২পিপিএম এর বেশী অক্সিজেন থাকতে হবে। ৩৬″x২৪″ মাপের পলিথিন ব্যাগে ৮-১০ লিটার পানি ভরতে হবে এবং ব্যাগে উপযুক্ত পরিমান পোনা ভরতে হবে। পরিবহনকালীন সময়ের ওপর নির্ভর করে অক্সিজেন ভর্তি পলিথিন ব্যাগে পোনা ভরতে হয়। পরিবহনকালীন সময় কম হলে পলিথিন ব্যাগে পোনার সংখ্যা বেশী হয়ে থাকে। তবে পোনার আকারের ওপর নির্ভর করেও পলিথিন ব্যাগে পোনার সংখ্যা কম বেশী হতে পারে। নিম্নের সারণীতে পরিবহনকালীন সময়ে অক্সিজেন ব্যাগে পোনার সংখ্যা দেয়া হলো –
tilapia fry transportation

পরিবহনকালীন সময়ে যে কারণে পোনার মৃত্যু হতে পারে –

  • পোনার শারীরিক দুর্বলতা, রোগাক্রান্ত অবস্থা ইত্যাদি
  • পরিবহন সময়ে শরীরের বর্জ্য পদার্থ বের হয়ে অন্ত্র খালি হয়ে যায় ফলে পলি ব্যাগের পানি দুষিত হয়ে পোনার মৃত্যু হতে পারে
  • পলি ব্যাগের পানিতে অক্সিজেনের অভাবে পোনার মৃত্য হয়ে থাকে

৪. তেলাপিয়া চাষের জন্য উপযোগী মাটি ও পানি
মাছের ক্ষেত্রে সুষ্ঠু জলজ পরিবেশের প্রয়োজন। মাছের জীবন ধারণের সব কাজ পুকুর-জলাশয়ের পানির মধ্যেই ঘটে বিধায় এসব কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য জলাশয়ের পরিবেশের বিভিন্ন গুণাবলী যথাযথ মাত্রায় নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। আমাদের দেশের পুকুরগুলো মাছ চাষ ছাড়াও দৈনন্দিন গৃহস্থালীর কাজে ব্যবহৃত হয়। সুতরাং মাছের ভাল উৎপাদন ও জনস্বাস্থ্যের কথা মনে রেখে পানির গুণাগুণ ভাল রাখা বিশেষ জরুরী। মাছের খাদ্য পানিতেই জন্মলাভ করে। প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন মাছের প্রধান খাদ্যকে প্লাংটন বলা হয়। এই প্লাংটন দুই প্রকারের, যথা – ক) উদ্ভিদ প্লাংটন ও খ) প্রাণী প্লাংটন। পুকুরের উৎপাদন উদ্ভিদ প্লাংটন কর্তৃক প্রাথমিক উৎপাদনের উপর নির্ভরশীল। প্লাংটন ছাড়াও মাছ সাধারণত বেনথোস, পেরিফোইটন, পচা জৈব পদার্থ ও কিছু পরিমাণ জলজ আগাছা খেয়ে থাকে। পুকুরের পানির গুণাগুণ নির্ভর করে মাটির প্রকৃতি, পারিপার্শ্বিক অবস্থা, জলবায়ু ও ভৌগলিক অবস্থানের উপর। জলাশয়ের পানি ধারণের আধার হলো মাটি। জলাশয়ের উৎপাদন মতা মাটির ধরণের ওপর নির্ভর করে। লাভজনকভাবে মাছ চাষের জন্য প্রয়োজন স্বাস্থ্যকর জলজ পরিবেশ এবং পানিতে প্রাকৃতিক খাদ্যের পরিমিত সংস্থান। পুকুরের মাটি ও পানির গুণাগুণ যথাযথ মাত্রার না হলে নিম্নের অসুবিধাসমূহ পরিলক্ষিত হয়।
মাটি ও পানির গণাগুণ সঠিক মাত্রায় না হলে-

  • মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য যথেষ্ট পরিমাণে উৎপাদিত হবে না ।
  • বাহির থেকে দেওয়া খাদ্যের অপচয় হবে ।
  • মাছের বৃদ্ধি আশানুরূপ হবে না ।
  • মাছ রোগ বালাই-এ আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারে ।
  • মাছের উৎপাদন কম হবে ।

পুকুরের পানি তখনই উর্বর হয় যখন এর মাটি হয় উর্বর এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকে। কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক যা পুকুরের পানি ও মাটি উর্বর করে ও তৎসংক্রান্ত সমস্যাবলী নীচে আলোচনা করা হলো।
মাটিঃ মাছ চাষের জন্য পানির প্রাচুর্যতা অত্যাবশ্যকীয় তাই এমন পুকুর নির্বাচন করতে হবে যে পুকুরের মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বেশী। এ জন্য পুকুরের মাটিতে পর্যাপ্ত কাদা থাকতে হবে। কর্দমাক্ত মাটিতে জৈব পদার্থও বেশী থাকে। এই পদার্থ পাংকটন জন্মের জন্য সহায়ক। পুকুর নির্বাচনে মাটির গুণাগুণ অবশ্যই পরীক্ষা করতে হবে। অম্লমাটি বা পচা দূর্গন্ধযুক্ত এটেল মাটি কখনই মাছ চাষের জন্য উপযুক্ত নয়। কারণ এ ধরণের পুকুরে কখনই মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য পর্যাপ্ত পরিমাণে জন্মায় না।
পুকুরের গভীরতা ও আকৃতিঃ গিফট তেলাপিয়ার প্রজনন ও চাষের জন্য পুকুরের পানির গভীরতা ৩-৪ ফুট এর বেশী হওয়া উচিৎ নয়। যে পুকুর গ্রীষ্মকালে শুকিয়ে যায় অথচ বর্ষাকালে ৩-৪ ফুট পানি থাকে সেই পুকুর গিফট তেলাপিয়ার প্রজনন ও চাষের জন্য ভালো। যে কোন মাছ চাষের জন্য পুকুর আয়তাকার হওয়া উচিৎ। ফলে জাল টেনে মাছ ধরার সুবিধা হয়। পুকুরের আকৃতি উত্তর দক্ষিণে লম্বা হওয়া উচিৎ যাতে করে পুকুরে পর্যাপ্ত বাতাসের ব্যবস্থা হয়।
পুকুরের পাড়ঃ পুকুরের পাড় খাড়া না হয়ে ক্রমান্বয়ে পুকুরের তলা পর্যন্ত ঢালু হওয়া উচিৎ। তাছাড়া ঢালু পাড়ে গিফট তেলাপিয়ার ডিম ছাড়ার জন্য বাসা তৈরী করে । পুকুরের পাড় সাধারণত: ২ঃ১ অনুপাতে ঢালু হওয়া উচিৎ।
পানিঃ মাছের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ অবশ্যই প্রয়োজন। তাই এমন পুকুর নির্বাচন করা উচিৎ যেখানে প্রয়োজনে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা থাকে।
পিএইচঃ পিএইচ মাত্রা মাছ চাষের অনুকুল হওয়া প্রয়োজন। পানির পি এইচ এর মাত্রা ৬.৫- ৯.০ হলে মাছ চাষের জন্য সুবিধা হয়। পিএইচ ৯.৫ এর বেশী হলে মাছ চাষের জন্য অসুবিধাজনক কারণ এ অবস্থায় মুক্ত কার্বন-ডাই অক্সাইড পাওয়া যায় না, ফলে প্রাথমিক উৎপাদন হতে পারে না। পক্ষান্তরে অ¤পানি (পিএইচ ৬.৫ এর কম) মাছ চাষের জন্য ভালো নয় কারণ এতে মাছেরা ক্ষুধা হ্রাস পায় এবং বৃদ্ধি কমে যায়।
দ্রবীভুত অক্সিজেনঃ পানিতে দ্রবীভুত বিভিনড়ব গ্যাস আছে। তার মধ্যে অক্সিজেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পানিতে অক্সিজেন আসে বাতাস থেকে এবং উদ্ভিজ্জ পাংটনের সালোকসংশেষণের মাধ্যমে। মাছ চাষের জন্য অক্সিজেনের পরিমাণ ৩.০ পিপিএম এর বেশী হওয়া উচিৎ।
কার্বন -ডাইঅক্সাইডঃ পানিতে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমান বেশী হলে অক্সিজেনের পরিমান কম থাকবে এবং তলদেশে হাইড্রোজেন সালফাইড ও অন্যান্য বিষাক্ত গ্যাসের সৃষ্টি হয়। তা ছাড়া পানিতে কার্বন-ডাই-অক্সাইড বেশী হলে (২০ পিপিএম) পানি অম্ল হয়।
লবণাক্ততাঃ গিফট তেলাপিয়া স্বাদু ও লবণাক্ত পানিতে বাস করতে পারে। ৩-১২ পিপিটি লবণাক্ততায় এরা বেঁচে থাকতে এবং প্রজনন করতে সক্ষম।

৫. পুকুরে মনোসেক্স গিফট তেলাপিয়ার চাষ পদ্ধতি
মনোসেক্স গিফট তেলাপিয়া অন্যান্য সাধারণ তেলাপিয়ার চেয়ে শতকরা ৩০ ভাগ বেশী উৎপাদনশীল বলে প্রমানিত হয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে চাষের জন্য একটি উচ্চ ফলনশীল মাছ। ছোট বড় পুকুর ডোবা ও অন্যান্য জলাশয়ে মনোসেক্স তেলাপিয়া চাষ করা হলে ৩-৪ মাসেই বাজারজাত করা যায়।

৫.১ মনোসেক্স পুরুষ তেলাপিয়ার ছোট পোনার নাসিং পদ্ধতি

  • নার্সিং পুকুরের আয়তন ১০-১২ শতাংশ এবং পানির গভীরতা ১ মিটার রাখা আবশ্যক ।
  • পুকুর শুকিয়ে সমস্ত রাুসে মাছ ও মৎস্যভূক প্রাণী নির্মুল করতে হবে। নিষ্কাশন সম্ভব না হলে মিহি ফাঁসের জাল টেনে প্রয়োগ করে অবাঞ্ছিত প্রাণী দূর করা যেতে পারে ।
  • পুকুরে প্রতি শতাংশে ১ কেজি হারে চুন প্রয়োগ করতে হবে ।
  • চুন প্রয়োগের ১ সপ্তাহ পরে প্রতি শতাংশে ৩-৪ কেজি গোবর, ১০০ গ্রাম ইউরিয়া ও ১০০ গ্রাম টিএসপি প্রয়োগ করতে হবে ।
  • নার্সারী পুকুরের প্রতি শতাংশে ১২,০০-১৫,০০ টি হারে পোনা মজুদ করা যেতে পারে ।
  • মজুদকৃত পোনাকে ৬ সপ্তাহ নার্সারী পুকুরে নিুলিখিত হারে সম্পূরক খাদ্য প্রয়োগ করতে হবে:

tilapia feeding rate

  • এভাবে ৬ সপ্তাহ লালনের পর পোনা যখন ১৫-২০ গ্রাম ওজনের হবে তখন তা বিক্রি বা চাষের ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে

৫.২ চাষ ব্যবস্থাপনা

  • পুকুর প্রস্তুতির পরে প্রতি শতাংশে ১৫-২০ গ্রাম ওজনের সুস্থ-সবল ২৫০ টি পোনা মজুদ করা যেতে পারে।
  • আধা-নিবিড় ব্যবস্থাপনায় নিয়মিত খাদ্য ও সার প্রয়োগ করলে ভাল ফলন পাওয়া যায়।
  • পোনা মজুদের পর প্রতিদিন পুকুরে নিুলিখিত হারে সম্পূরক খাদ্য (২৫-২৮% প্রোটিন) প্রয়োগ করতে হবে।

tilapia feeding rate

  • প্রাকৃতিক খাদ্যের প্রাচুর্যতা বৃদ্ধির জন্য ১০ দিন অন্তর অন্তর প্রতি শতাংশে ৬-৮ কেজি পচা গোবর প্রয়োগ করা যেতে পারে
  • প্রতি মাসে দু’বার জাল টেনে মাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি পর্যবেণ করে খাবারের পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে এবং মাছ নিয়মিত খাবার খাচেছ কিনা সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে

৫.৩ মাছ আহরণ ও উৎপাদন
চাষের ৪ মাসের মধ্যে মাছ ২০০-২৫০ গ্রাম ওজনের হলে পুকুরের সমস্ত পানি মাছ শুকিয়ে বিক্রি করতে হবে। ক্স আধা-নিবিড় পদ্ধতিতে মাছ চাষ করলে ৪ মাসের মধ্যে শতাংশ প্রতি ৫০ থেকে ৫৫ কেজি মাছ উৎপাদন করা সম্ভব।
৫.৪ সাধারণ পরামর্শ
মনোসেক্স পুরুষ তেলাপিয়া পোনা উৎপাদন ও চাষের ক্ষেত্রে নিুলিখিত বিষয়ের দিকে ল্য রাখতে হবে –

  • প্রজনন পুকুরে স্ত্রী ও পুরুষ মাছের অনুপাত সঠিক হারে রাখতে হবে ।
  • উন্নত জাতের তেলাপিয়ার সাথে স্থানীয় জাতের তেলাপিয়ার যাতে মিশ্রন না ঘটে সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।
  • হরমোন মিশ্রিত খাদ্য প্রয়োগের ক্ষেত্রে পোনার সাইজের তারতম্য না হওয়াই ভাল। সে জন্য একই দিনে সংগৃহীত নিষিক্ত ডিম হতে উৎপাদিত পোনা একত্র করে হাপায় বা সিসটার্নে রেখে হরমোন মিশ্রিত খাদ্য প্রয়োগ করা যেতে পারে।
  • বাৎসরিক পুকুরে তেলাপিয়া চাষ না করাই ভাল।
  • পুকুর অবশ্যই শুকিয়ে পরবর্তী চাষ শুরুর আগে সমস্ত মাছ ধরে ফেলতে হবে।

৬. তেলাপিয়ার খাদ্য প্রস্তুত, সংরণ ও প্রয়োগ পদ্ধতি

৬.১ তেলাপিয়ার পুষ্টি চাহিদা
খাদ্যের ব্যাপারে গিফট তেলাপিয়ার বাছ-বিচার কম এবং এর খাদ্যের পরিধিও ব্যাপক। তাই এ মাছকে সর্বভূক বলা যেতে পারে। পুকুরে প্রাকৃতিকভাবে যে শ্যাওলা ও জলজ কীটপতঙ্গ জন্মে তার সব কিছুই এ মাছ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। গিফট তেলাপিয়া চাষের ক্ষেত্রে ভাল ফলন পেতে হলে আমিষ সমৃদ্ধ খাবার সরবরাহ করতে হয়। আকারভেদে এ মাছের আমিষ চাহিদা ৩০-৩৫%।

৬.২ খাদ্য উপাদান
যেহেতু তেলাপিয়া সর্বভূক সেহেতু এরা যে কোন প্রকার খাদ্য থেকে অভ্যস্থ। সহজলভ্য প্রচলিত যে কোন খাদ্য উপাদান যেমন- চালের কুঁড়া, গমের ভুষি, সরিষার খৈল, ফিশ মিল প্রভৃতি গিফট তেলাপিয়ার খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

৬.৩ খাদ্য তৈরির সূত্র ও প্রস্তুত প্রণালী
গিফট তেলাপিয়ার চাষ পদ্ধতিকে দুই ভাবে ভাগ করা যেতে পারে- নার্সারী ও চাষ পর্যায়।
নার্সারী পর্যায়ে খাদ্য

  • এ পর্যায়ে গিফট তেলাপিয়ার পোনা নার্সারিতে লালন পালন করার জন্য ৩০-৩৫% আমিষ সমৃদ্ধ খাদ্যের প্রয়োজন হয়।
  • খাদ্য উপাদন হিসেবে চালের কুঁড়া, সরিষার খৈল, গমের ভূসি, ফিশ মিল ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • আঁতুর পুকুরে প্রতি শতাংশে ১,২০০-১,৫০০টি পোনা লালন করে ৩০% আমিষ সমৃদ্ধ খাদ্য দেহ ওজনের শতকরা ৮-১০ ভাগ হারে
  • প্রয়োগ করলে দেড় মাসে ৮-১০ গ্রাম ওজনের পোনা পাওয়া যায়।

৬.৪ মনোসেক্স তেলাপিয়ার পোনা মাছের সুষম সম্পূরক খাদ্যের সূত্র
tilapia feed formula

পরামর্শ

  • বাণিজ্যিকভাবে গিফট তেলাপিয়া চাষের ক্ষেতে পিলেট খাদ্য সবচেয়ে উপযোগী।
  • পুকুরের ৩-৪টি স্থান নির্বাচন করে ঐ স্থানে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে খাদ্য প্রয়োগ করতে হবে।
  • প্রতি মাসে মাছের নমুনা গ্রহণ করে মজুদকৃত মাছের মোট দেহ ওজনের ভিত্তিতে খাদ্যের পরিমান বাড়াতে হবে।
  • মেঘলা দিনে স্বাভাবিকের চেয়ে কম খাদ্য প্রয়োগ করতে হবে।
  • শীতকালে খাদ্য প্রয়োগের হার স্বাভাবিকের চেয়ে অর্ধেক বা তিনভাগের এক ভাগ কমিয়ে আনতে হবে।
  • মাছ ঠিকমত খাদ্য খায় কি না তা জানার জন্য খাদ্য প্রয়োগের স্থান মাঝে মাঝে পর্যবেক্ষণ করে দেখতে হবে। প্রয়োগ স্থানে খাদ্য জমে থাকলে খাদ্যের পরিমান কমিয়ে ফেলতে হবে।

৬.৫ চাষ পর্যায়
চাষকালীন সময়ে গিফট তেলাপিয়ার রেণু পোনার চেয়ে তুলনামুলকভাবে কম আমিষ সমৃদ্ধ খাদ্যের প্রয়োজন হয়। এ পর্যায়ে অপোকৃত বেশী উৎপাদন পাওয়ার লক্ষ্যে মজুদ পুকুরে ২৫-২৮ % আমিষ সমৃদ্ধ খাদ্য প্রয়োগে ভাল ফলন পাওয়া যায়।

tilapia feed formula

৬.৬ খাদ্য তৈরী ও প্রয়োগ পদ্ধতি
নার্সারি পুকুরের ক্ষেত্রে সূত্রে উল্লেখিত খাদ্য উপাদানসমূহ ভালভাবে মিশ্রিত করে সমস্ত পুকুরে দিনে দুবার ছিটিয়ে প্রয়োগ করতে হবে। অথবা পিলেট মেশিনের সাহায্য উল্লেখিত উপাদানসমূহ দিয়ে নার্সারি ফিড তৈরি করে ব্যবহার করা যেতে পারে। বানিজ্যিকভাবে পোনা পালনের ক্ষেত্রে নার্সারি ফিড তৈরি করে প্রয়োগ করাই উত্তম। মজুদ পুকুরের বেলায় সূত্রে উল্লেখিত খাদ্য উপাদানসমূহ ভালভাবে মিশ্রিত করে বল আকারে ব্যবহার করা যায় অথবা বানিজ্যিক ভিত্তিতে পিলেট মেশিনে ২-৪ মিলিমিটার ব্যাস বিশিষ্ট পিলেট খাদ্য তৈরি করা যেতে পারে। গিফট তেলাপিয়া মাছকে দেহের ওজনের ৩-৫% হারে দিনে দু’বার খাবার প্রয়োগ করতে হয়। তবে বাণিজ্যিক ভাবে তৈরী ভাসমাণ পিলেট খাদ্য খাঁচায় বা পুকুরে তেলাপিয়া উৎপাদনে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং খাদ্যের রুপান্তর হার (এফসিআর) ১.৩ – ১.৫ হয়ে থাকে।

৭. তেলাপিয়ার সাধারণ রোগ নির্ণয়, প্রতিকার ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা
তেলাপিয়া একটি উচ্চ রোগ প্রতিরোধ মতাসম্পন্ন মাছের প্রজাতি হিসাবে পরিচিত। কারণ এরা প্রতিকূল জলজ পরিবেশে অন্যান্য মৎস্য প্রজাতির তুলনায় অনেক বেশি খাপ খাওয়াতে অভ্যস্ত। তবে উচ্চ মজুত ঘনত্ব ও বদ্ধ জলজ পরিবেশে পরিত্যক্ত খাবার, মাছের বিপাকীয় বর্জ্য ও অন্যান্য আবর্জনা পচনের ফলে পানি দূষিত হয়ে রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। কোন ট্যাঙ্ক, হ্যাচারী বা খামারে একবার জীবাণু প্রবেশ করলে তাকে সমূলে উচ্ছেদ করা অত্যন্ত কঠিন। তাই খামারে জীবাণু প্রবেশের সব ধরণের পথ বন্ধ করে দেয়াই আদর্শ মৎস্য চাষির কর্তব্য। রোগের ঝুঁকি কমানোর মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ করা সবচেয়ে সুবিধাজনক পদ্ধতি। নিুলিখিত সতর্কতা অবলম্বনের মাধ্যমে রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব –

  • নিরোগ ও সবল মাছের পোনা সংগ্রহ।
  • ট্যাঙ্ক/হ্যাচারী/খামার ও মাছ চাষের যাবতীয় সরঞ্জাম জীবাণু মুক্তকরণ।
  • উচ্চ মজুদ হার পরিহার করা।
  • সকল প্রকার জীবাণু বাহক দূরে রাখার ব্যবস্থা করা।
  • পরিমিত ও সুষম খাবার প্রয়োগ।
  • খামার ও মাছের পরিচর্যা নিশ্চিতকরণ।

নিম্নে তেলাপিয়ার কতিপয় রোগ ও প্রতিকারের বিষয় সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলো-
৭.১ পরজীবিজনিত রোগ
৭.১.১ ট্রাইকোডিনিড সংক্রমণ (Trichodinid infestation)
লক্ষণ

  • মাছের অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়।
  • মাছ অস্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করে।
  • চৌবাচ্চার তলদেশ বা বিভিন্ন বস্তুুর সাথে গা ঘষে।
  • শ্বাসপ্রশ্বাস বৃদ্ধি পায়।
  • ওজন কমে যায়।
  • ফুলকা ও ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যায়।
  • পাখনা ছিঁড়ে যায়।

চিকিৎসা

  • পুকুরে – ফরমালিন ২৫পিপিএম অথবা সোডিয়াম কোরাইড ২০০পিপিএম শুধুমাত্র একবার প্রয়োগ করতে হবে।
  • চৌবাচ্চায় গোসল – আক্রান্ত মাছকে ২৫০পিপিএম ফরমালিনে ১ঘণ্টা গোসল করাতে হবে।

৭.১.২ কাইলোডোনেলা সংক্রমণ (Chilodonella spp.)
লক্ষণ

  • এইসব পরজীবি মাছের গায়ে লেগে থেকে বিরক্তির উদ্রেক করে।
  • মাছ লাফালাফি করে।
  • অনেক সময় দুর্বল ও অবশ হয়ে যায়।
  • নীলাভ-ধূসর মিউকাস দ্বারা মাছের শরীর আবৃত হয়।
  • ছোট মাছ বেশি আক্রান্ত হয়।
  • ফুলকার টিস্যু ফুলে যায় ও তিগ্রস্ত হয় ফলে মাছের শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।

সতর্কতা

  • উন্নত পরিবেশ সংরণ ও সুষম খাবার প্রয়োগ।
  • অতিরিক্ত মাছ মজুদ পরিহার।
  • পুকুর জীবাণু মুক্তকরণ (চুন প্রয়োগের মাধ্যমে)।
  • পোনা মজুদের পূর্বে চুন প্রয়োগ।

চিকিৎসা

  • ২৫ পিপিএম ফরমালিন আক্রান্ত পুকুরে প্রয়োগ।

৭.১.৩ আরগুলাস সংক্রমণ (Argulus spp.)
লক্ষণ

  • এটি এক ধরণের উকুন । এর আক্রমণে ছোট মাছের ক্ষেত্রে দৈহিক ভারসাম্যহীনতা পরিলতি হয় ।
  • মাছকে বিভিন্ন কঠিন বস্তুর সাথে গা ঘষতে দেখা যায়।
  • আক্রান্ত স্থানে একটি গোলাকার গর্ত পরিলতি হয় যা অনেক সময় গাঢ় লাল বর্ণ ধারণ করে।
  • আক্রান্ত স্থানের চারপাশ ফুলে যায়।
  • আইশ ঢিলে হয়ে যায় এমন কি পড়ে যায়।
  • মাছের আক্রান্ত অংশ পানিতে বিদ্যমান ছত্রাক, ভাইরাস ও ব্যাক্টেরিয়াসহ বিভিন্ন জীবাণুর প্রবেশপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয় ।
  • আক্রান্ত অংশে গভীর তের সৃষ্টি হয়।

পুকুরে চিকিৎসা

  • ০.২৫ পিপিএম ডিপটারেক্স সপ্তাতে ১ বার হিসেবে পর পর ৩ বার পুকুরে প্রয়োগ করা যেতে পারে।

মাছের চিকিৎসা

  • আক্রান্ত মাছের শরীর থেকে ফরসেপের সাহায্যে উকুন উঠিয়ে ফেলা যায়। তারপর ১০ পিপিএম পটাশ অথবা ৫ পিপিএম সোডিয়াম কোরাইড দ্রবণে ১০-৩০ মিনিট ডুবিয়ে রাখা হয়। তবে উল্লেখিত চিকিৎসার সময়সীমা মাছের সহ্য মতার সাথে সংগতিপূর্ণ হতে হবে।

৭.২ ব্যাক্টেরিয়াজনিত রোগ
৭.২ ১ কলামনারিস সংক্রমণ (Collumnaris infection)
লক্ষণ

  • প্রাথমিক পর্যায়ে মাছের মাথা, ত্বক, ফুলকা ও পাখনায় সাদা দাগ দেখা যায়।
  • এইসব সাদা দাগ পরবর্তীতে লাল অংশ দ্বারা পরিবেষ্টিত হতে দেখা যায়।
  • মাছের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ সচরাচর আক্রান্ত হয় না।

চিকিৎসা

  • যেহেতু এই রোগ প্রাথমিকভাবে শরীরের বাহ্যিক অংশকে আক্রমণ করে তাই বাহ্যিক চিকিৎসা অনেকাংশে সফল হয়ে থাকে।

চৌবাচ্চায় চিকিৎসা

  • ফরমালিন – ২৫০ পিপিএম দ্রবণে মাছকে ১ঘণ্টা ডুবিয়ে রাখতে হবে।
  • কপার সালফেট – ২৫০ পিপিএম দ্রবণে ১ মিনিট ডুবিয়ে রাখতে হবে।

পুকুরে চিকিৎসা

  • ফরমালিন – ২৫ পিপিএম, ৩-৪ বার, ১ দিন পর পর পুকুরে প্রয়োগ করতে হবে।

এন্টিবায়োটিক প্রয়োগ

  • অক্সিটেট্টাসাইকিনঃ প্রতি কেজি মাছের জন্য ৫০-৭৫ মি.গ্রা হিসেবে পর পর৫-১০ দিন খাবারের সাথে মিশিয়ে খাওয়াতে হবে। মাছের বয়স ও রোগের তীব্রতার সাথে উল্লেখিত মাত্রার পরিবর্তন হতে পারে।

৭.২.২ স্ট্রেপটোকক্কাস সংক্রমণ (Streptococcus spp.)
লক্ষণ

  • শারিরীক দুর্বলতা ও চলাফেরায় শৈথিল্য।
  • ক্ষুধামন্দা।
  • পায়ুপথ ফ্যাকাশে লাল হওয়া।
  • লালচে চু, ফুলকা ও মাংশ পেশী ।
  • মাছের কলিজা, বৃক্ক ও প্লীহা ফুলে যাওয়া।
  • মাছ খাড়াভাবে বৃত্তাকারে সাঁতার কাটে।
  • চোখ বাইরের দিকে বের হয়ে যায় ও কর্নিয়া অস্বচ্ছ হয়ে যায়।

এন্টিবায়োটিক প্রয়োগ
ইরাইথ্রোমাইসিনঃ ৫০ মি.গ্রা./কেজি মাছের জন্য/দিন/৪-৭ দিন খাবারের সাথে মিশিয়ে খাওয়াতে হবে।
৭.২.৩ মোটাইল এরোমোনাড সেপটিসেমিয়া (Motile Aeromonad Septicaemia)
লক্ষণ

  • এইসব রোগের সাধারণ লণসমূহ স্ট্রেপটোকক্কাসে আক্রান্ত মাছের লণের সাথে প্রচুর মিল রয়েছে।
  • মাছের চলাফেরায় শৈথিল্য ও শারীরিক দুর্বলতা
  • ক্ষুধামন্দা
  • আঁইশ উঠে যাওয়া
  • ফ্যাকাশে লাল পায়ুপথ ও পাখনার গোড়া
  • লালচে চক্ষু
  • শরীরে বিস্তৃত ও গভীর তের সৃষ্টি হওয়া
  • পেটে তরল পদার্থ জমা হওয়া
  • মাছের বৃক্ক, প্লিহা ও যকৃত ফুলে যাওয়া

চিকিৎসা: এন্টিবায়োটিক

  • অক্সিটেট্টাসাইকিন – ৫০ মি. গ্রা./কেজি মাছের/প্রতিদিন খাবারের সাথে মিশিয়ে ৪-৭ দিন খাওয়াতে হবে।

৭.৩ ছত্রাকজনিত রোগ (Fungal Infection)
তেলাপিয়ার খামার বিশেষ করে হ্যাচারীতে ছত্রাক সংক্রমণ একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা । ছত্রাক সাধারণত দ্বিতীয় পর্যায়ের সংক্রমণকারী জীবাণু হিসেবে পরিচিত । মাছের ত্বক, পাখনা, ফুলকা ও ডিমের উপরেরর দিক কোন কারনে য় ছিঁড়ে গেলে ছেঁড়া অংশে ছত্রাক সংক্রমণ হয়। ছত্রাক সংক্রমণের ফলে ডিম বা লার্ভি মারা যায় ।
লক্ষণ

  • মাছের গায়ে বা ডিমের উপর সাদা তুলার মত অবরণ দেখা যায়, তবে অন্যান্য বস্তুর সাথে মিশে এর রং পরিবর্তিত হতে পারে ।
  • অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর রং বাদামী হতে দেখা যায় ।
  • ছত্রাকের শাখা-প্রশাখা মাছের ত্বকে বিস্তার লাভ করে, ফলে শরীরের লবণ-ভারসাম্যতা বিনষ্ট হয় ও মাছ মারা যায় ।

সতর্কতা

  • পুকুর/হ্যাচারী জীবাণুমুক্ত ও পরিচ্ছন্নকরণ।
  • হ্যাচারী কর্মীর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ।
  • হ্যাচারী যন্ত্রপাতির পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ।
  • মাছ ধরা, পরিবহন, জালটানাসহ প্রতিটি কাজে এমন সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে যেন মাছের উপর কোন চাপ সৃষ্টি না হয়। ডিম ও লার্ভিরক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

চিকিৎসা

  • ৩০,০০০- ৫০,০০০ পিপিএম লবণ পানিতে আক্রান্ত মাছকে, ৩-৪ মিনিট ডুবিয়ে রাখতে হবে, তবে চিকিৎসার সময়কাল মাছের সহ্যমতার উপর নির্ভরশীল। প্রয়োজনে চিকিৎসার পুনরাবৃত্তি করতে হবে ।

তথ্যসূত্র:
ড. মোস্তফা আলী রেজা হোসেন, ড. মোঃ শাহাআলী, ড. মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, ড. মোঃ আব্দুল ওহাব, ড. মোঃ সাইফুদ্দিন শাহ্ (২০১১) তেলাপিয়া মাছের পোনা উৎপাদনে হ্যাচারী ও চাষ ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল; বাংলাদেশ ফিসারিজ রিসার্চ ফোরাম, ইনোভিশন কনসালটিং প্রাইভেট লিমিটেড ও ক্যাটালিষ্ট; ঢাকা, বাংলাদেশ। পৃষ্ঠা ৪৩।

বিস্তারিত তথ্যের জন্য তথ্যসূত্রের ডকুমেন্টটি নিচে যোগ করে দেয়া হল। ডকুমেন্টটির উৎস্য: http://www.bfrf.org

#1

Please login or Register to Submit Answer

Latest Q&A

To get new Q&A alert in your inbox, please subscribe your email here

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Like our FaceBook Page to get updates

Are you satisfied with this site?

If YES, Please SHARE with your friends

If NO, You may send your feedback from Here

OR, Do you have any fisheries relevant question? Please Ask Here