পুকুরের পানির জৈবিক গুণাগুণ বলতে কী বোঝায়?

1 answer

Anonymous December 20, 2014

পুকুরের পানির জৈবিক গুণাগুণ বলতে ঐ পুকুরের পানিতে বসবাসরত জীবকুল অর্থাৎ উদ্ভিদ ও প্রাণীকূলকে বোঝায়। সাধারণত পুকুরের স্বাভাবিকভাবে জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণী জন্মায়। কিছু কিছু জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণী অতি ক্ষুদ্র। এগুলো দেখতে অণুবীক্ষণ যন্ত্র দরকার হয়। ক্ষুদ্র জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণী মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য। আবার কিছু কিছু জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণী পুকুরের পানি থেকে পুষ্টি গ্রহণ করে স্বাভাবিক উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দেয়। ফলে মাছ চাষে বিঘ্ন ঘটে। নিম্নবর্ণিত জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণী পুকুরে জন্মে থাকে।
ভাসমান উদ্ভিদ
এ ধরনের জলজ উদ্ভিদের পাতা পানির উপরে ভাসতে থাকে কিন্তু মূল পানির মধ্যে ঝুলে থাকে। যেমন-কচুরিপানা, টোপা পানা, ক্ষুদে পানা ইত্যাদি। এগুলো পুকুরে সূর্যালোক প্রবেশে বাধার সৃষ্টি করে এবং পুকুরে ব্যবহৃত সার হতে পুষ্টি গ্রহণ করে পুকুরের উৎপাদন ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। পুকুরে এ ধরনের উদ্ভিদ থাকলে সেগুলো উঠিয়ে ফেলতে হবে।
ডুবন্ত উদ্ভিদ
এ ধরনের জলজ উদ্ভিদ পানির তলদেশে থাকে। এরা পুকুরের গভীরে সূর্যের আলো প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। মাছের স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটায়। যেমন-পাতা ঝাঁঝি, কাঁটা ঝাঁঝি, নাজাস ইত্যাদি।
নির্গমনশীল উদ্ভিদ
কিছু জলজ উদ্ভিদের মূল পুকুরের কিনারায় থাকে এবং উদ্ভিদগুলো পানির উপরে বাড়তে থাকে, এগুলো নির্গমনশীল উদ্ভিদ। যেমন-আড়ালি, দল, কলমিলতা ইত্যাদি।
লতানো উদ্ভিদ
কিছু জলজ উদ্ভিদের মূল পুকুরের পানিতে ভাসমান থাকে এবং উদ্ভিদের শাখা প্রশাখাগুলো পানির উপরে ছড়িয়ে থাকে, এগুলো লতানো উদ্ভিদ। যথা -হেলেঞ্চা, মালঞ্চ, কেশরদাম ইত্যাদি।
প্ল্যাঙ্কটন
পানিতে যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জীবকণা থাকে তাকেই প্ল্যাংঙ্কটন বলা হয়। প্ল্যাংঙ্কটন মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য। প্ল্যাংঙ্কটন বেশি থাকা পুকুরের অধিক উৎপাদনশীলতা নির্দেশ করে। প্ল্যাংঙ্কটন দু’ধরনের ক) উদ্ভিদ-প্ল্যাংঙ্কটন খ) প্রাণি-প্ল্যাংঙ্কটন।

  • উদ্ভিদ-প্ল্যাংঙ্কটন
    ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলজ উদ্ভিদই উদ্ভিদ-প্ল্যাংঙ্কটন। এগুলোর বর্ণ সবুজ। উদ্ভিদ-প্ল্যাংঙ্কটন মাছের খাদ্য শিকলের প্রথম পর্যায়ের প্রাকৃতিক খাদ্য। যেমন-ডায়াটম, ভলভক্স, স্পাইরোগাইরা ইত্যাদি। এগুলোকে সবুজ শেওলাও বলা হয়। পুকুরে উদ্ভিদ-প্ল্যাংঙ্কটন অত্যধিক জন্মালে পানির উপর ঘন সবুজ স্তর পড়ে। একে ব্লুম বলে। এরূপ অবস্থা মাছের জন্য ক্ষতিকর। ঘন সবুজ স্তর পুকুরের পানিতে সূর্যের আলো প্রবেশে বাধার সৃষ্টি করে। পরিমিত উদ্ভিদ-প্ল্যাংঙ্কটন প্রাচুর্য সফলভাবে মাছ চাষের জন্য অত্যাবশ্যক।
  • প্রাণি-প্ল্যাংঙ্কটন
    ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলজ প্রাণীকে প্রাণি-প্ল্যাংঙ্কটন বলা হয়। প্রাণি-প্ল্যাংঙ্কটন সাধারণতঃ বাদামী বর্ণের হয়ে থাকে। যেমন- ডেফনিয়া, রটিফেরা, ময়না ইত্যাদি। প্রাণি-প্ল্যাংঙ্কটন মাছের খাদ্য শিকলের দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রাকৃতিক খাবার।

কীট-পতংগ
পুকুরের তলদেশে বিভিন্ন ধরনের কীট-পতঙ্গ বাস করে। এগুলো মাছের খাদ্য চক্রের অন্তর্ভুক্ত। যথা-বিভিন্ন লার্ভি, ওয়াটার বিটল।
 
তথ্যসূত্র: DoF

#1

Please login or Register to Submit Answer

Latest Q&A

To get new Q&A alert in your inbox, please subscribe your email here

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Like our FaceBook Page to get updates

Are you satisfied with this site?

If YES, Please SHARE with your friends

If NO, You may send your feedback from Here

OR, Do you have any fisheries relevant question? Please Ask Here