মাছচাষে পুকুরের তলদেশের কাঁদা কি ক্ষতিকর?

QuestionsCategory: Aquacultureমাছচাষে পুকুরের তলদেশের কাঁদা কি ক্ষতিকর?
Anonymous asked 4 years ago

*

1 Answers
Anonymous answered 4 years ago

পানির গুণগতমান বিশেষ করে রাসায়নিক গুণাগুণ অনেকাংশে পুকুরের তলদেশের মাটির গুণাগুণের দ্বারা প্রভাবিত হয়। পুকুরের তলদেশের মাটি যদি অম্লীয় হয় তাহলে ঐ পুকুরের পানিও অম্লীয় হবে। আবার যদি কোন পুকুরের তলদেশের মাটিতে পুষ্টিকারক পদার্থ কম থাকে তাহলে ঐসব পুকুরের পানিতেও পুষ্টিকারক পদার্থের পরিমাণ কম পরিলক্ষিত হবে। যদিও পানির গুণগতমান অধিকাংশ ক্ষেত্রে মাটির গুণগতমানের ওপর নির্ভরশীল তবুও পুকুরের অবস্থানগত কারণেও জৈবিক উৎপাদনের পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।
পুকুরে উৎপাদনশীলতার অধিকাংশই নির্ভর করে তলদেশের মাটির ওপর। যদি অনুবর্বর কৃষি জমিতে পুকুর খনন করা হয় এবং বাহির থেকে কোন প্রকার পুষ্টিকারক উপাদান সরবরাহ করা না হয় তবে সেই পুকুর হবে অনুৎপাদনশীল এবং খননকৃত পুকুরটির মাটি যদি উর্বর হয় তবে সেই পুকুর হবে উৎপাদনশীল। সর্বোত্তম পুকুরের তলদেশের মাটি হচ্ছে সেই মাটি যে মাটিতে জৈব পদার্থসমূহের পচন তাড়াতাড়ি হয় এবং মাটি ও পানির আন্তঃক্রিয়া সার্বক্ষণিক চলে এবং তলদেশের মাটি থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টিকারক পদার্থসমূহ সহজেই পানিতে মুক্ত হয়। দোঁআশ মাটিতে সার প্রয়োগ সবচেয়ে বেশি কার্যকর। কাদা মাটি মাছ চাষের জন্য কম উপযোগি কারণ কাদা মাটি খুব বেশি কমপ্যাক্ট এবং পানি শোষণ ক্ষমতা বেশি। তলদেশে কাদাযুক্ত পুকুর খুব বেশি উৎপাদনশীল। সার প্রয়োগের মাধ্যমে পুকুরের অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টিকারক পদার্থ সমূহের সরবরাহের মাধ্যমে পুকুরের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং এতে করে মাছের অধিক উৎপাদনও নিশ্চিত হবে।এক গবেষণায় দেখা গেছে (হেরিক এবং তার সহকর্মী, ১৯৮৪) পুকুরের তলদেশীয় মাটির রাসায়নিক ধর্মাবলী অনেকাংশে পার্শ্ববর্তী জমির মাটির সাথে পারম্পরিকভাবে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত এবং পাশ্ববর্তী জমি থেকে আসা পুষ্টিকারকের কারণে ঐ পুকুরের তলদেশের মাটিতে পুষ্টিকারক পদার্থের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়।
পুকুরের তলানী থেকে পুষ্টিকারক পদার্থসমূহের অবমুক্তি কিংবা ধারণ ক্ষমতা নির্ভর করে পানির বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক ধর্ম এবং তলদেশের কাদা ও পুকুরে অবস্থিত বিভিন্ন ধরনের ব্যাক্টেরিয়ার কর্মকান্ড দ্বারা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভৌত-রাসায়নিক প্রভাবসমূহ যা তলদেশীয় মাটি ও পানির সাথে আন্তঃক্রিয়া করে থাকে তা মূলতঃ নির্ভর করে তলদেশীয় মাটির ধরণ, তাপমাত্রা, গভীরতা, পানির ঘনত্ব, দ্রবীভূত অক্সিজেন, পিএইচ এবং মোট ক্ষারকত্বের ওপর। তাছাড়া আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক আছে, সে গুলো হলো- আবহাওয়া, ঋতু, ওয়াটার শেড, পানি চুয়ানো ইত্যাদি।
 
তথ্যসূত্র: DoF