মাছচাষে পুকুরের বিভিন্ন ধরণের মাটির ক্ষতিকর প্রভাব এবং তা নিয়ন্ত্রণের উপায় কী?

1 answer

Anonymous December 18, 2014

বিভিন্ন মাটির বৈশিষ্ট্য ও প্রভাব নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা

মাটির প্রকার বিস্তৃতি বৈশিষ্ট্য প্রভাব ক্ষতির প্রভাব নিয়ন্ত্রণের সম্ভাব্য ব্যবস্থা
গড় বা লাল মাটি অঞ্চল ঢাকা জেলার উত্তরাংশ, টাংঙ্গাইল জেলার পূর্বাংশ, ময়মনসিংহ জেলার দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ, নোয়াখালী-কুমিল্লা ও চট্রগ্রাম জেলার এলাকা বিশেষ। অতি ক্ষুদ্র বা সুক্ষ্ম কণার সমন্বয়ে গঠিত, বর্ণ লালচে, লোহার পরিমাণ বেশি, জৈব পদার্থ, নাইট্রোজেন, ফসফরাস, চুন প্রভৃতি কম, পিএইচ মান ৫.৫-৬.০ পানি ঘোলাটে হতে পারে। মাছের ফুলকা ও চেখে ঘা হতে পারে। প্রাকৃতিক খাদ্যকণা তৈরি বাধাগ্রস্থ হয়। কাতলা, সিলভার কার্প, রুই, নাইলোটিকা, রাজপুঁটি চাষের উপযোগি। ঘোলাত্ব দূর করতে প্রতি শতকে চুন ১.৫-২.০ কেজি জিপসাম ১.০-২.০ কেজি অথবা ফিটকিরি ০.৫-০.৬ কেজি প্রয়োগ করা যেতে পারে। তলদেশে বিচরণকারী মাছ কম সংখ্যক মজুদ করা উচিত। পোল্ট্রি খামারের বর্জ্য ব্যবহার করে প্রাকৃতিক উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো যায়।
গড় বা লাল মাটি অঞ্চল ঢাকা জেলার উত্তরাংশ, টাংঙ্গাইল জেলার পূর্বাংশ, ময়মনসিংহ জেলার দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ, নোয়াখালী-কুমিল্লা ও চট্রগ্রাম জেলার এলাকা বিশেষ। অতি ক্ষুদ্র বা সুক্ষ্ম কণার সমন্বয়ে গঠিত, বর্ণ লালচে, লোহার পরিমাণ বেশি, জৈব পদার্থ, নাইট্রোজেন, ফসফরাস, চুন প্রভৃতি কম, পিএইচ মান ৫.৫-৬.০ পানি ঘোলাটে হতে পারে। মাছের ফুলকা ও চেখে ঘা হতে পারে। প্রাকৃতিক খাদ্যকণা তৈরি বাধাগ্রস্থ হয়। কাতলা, সিলভার কার্প, রুই, নাইলোটিকা, রাজপুঁটি চাষের উপযোগী। ঘোলাত্ব দূর করতে প্রতি শতকে চুন ১.৫-২.০ কেজি জিপসাম ১.০-২.০ কেজি অথবা ফিটকিরি ০.৫-০.৬ কেজি প্রয়োগ করা যেতে পারে। তলদেশে বিচরণকারী মাছ কম সংখ্যক মজুদ করা উচিত। পোল্ট্রি খামারের বর্জ্য ব্যবহার করে প্রাকৃতিক উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো যায়।
বরেন্দ্র দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ, বগুড়া জেলার পশ্চিমাংশ, রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এটেল প্রকৃতির, হলুদ রং, লোহা ও এ্যালুমিনিয়ামের ভাগ বেশি নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও ক্যালসিয়ামের অভাব আছে। পিএইচ মান ৬.০-৬.৫ দীর্ঘ খরায় পুকুর শুকিয়ে অথবা অত্যাধিক শীতে পানি শীতল হয়ে মাছের উৎপাদন ব্যাহত হয়। মৌসুমী বর্ষণে পানি ঘোলা হয়। ব্যবস্থাপনা সাপেক্ষে যে কোন মাছ চাষ করা যায় পুকুরে কিছু ভাসমান আগাছা রেখে তাপ থেকে মাছ রক্ষা করা যায। বিকল্প উৎসে পানি মজুদ করে খরার প্রতিক্রিয়া রোধ করা য়ায়। তীব্র শীতে সার ও খাদ্য প্রয়োগ সীমিত বা বন্ধ রাখতে হবে।
ব্রক্ষ্মপুত্রের পাললিক অঞ্চল বৃহত্তর ময়মনসিংহ (গড়াঞ্চল ব্যতীত), জামালপুর, শেরপুর, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ব্রাক্ষ্মণবাড়ীয়া, কুমিল্লা, চাঁদপুর নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও সিলেট জেলার সমতল এলাকা। পলিযুক্ত, ধূসর থেকে গাঢ় ধূসর রং, এটেল বা দো-আঁশ প্রকৃতির উর্বর মাটি চুন বা ক্যালসিয়ামের ভাগ কম। পিএইচ মান ৫.৫-৬.৮ আবহাওয়া সারা বছর মাছের অনুকূলে থাকে। কোথাও কোথাও ডুবন্ত জলজ আগাছায় চাষ ক্ষতিগস্ত হয়, যে কোন প্রজাতির মাছ চাষ করার উপযোগি। ২-৩ বছরে একবার পুকুর শুকিয়ে তৈরি করা উচিত। নিয়মিত চুন ব্যবহার করতে হবে।
তিস্তার পলিমাটি অঞ্চল দিনাজপুর জেলার উত্তরাংশ, ঠাকুরগাঁও রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নীলফামারী, বগুড়া জেলার পূর্বাঞ্চল, সিরাজগঞ্জ জেলার অধিকাংশ অঞ্চল বেলে দো-আঁশ বা বালিময় পলিতে গঠিত জৈব পদার্থ ও চুনের ভাগ কম। পিএইচ মান ৬.০-৬.৫ পানি ধারণক্ষমতা সীমিত। পরিবেশ যে কোন মাছ চাষের উপযোগি। হ্যাচারি বা নার্সারি এবং চিংড়ি চাষও লাভজনক। চুন ও জৈব সার নিয়মিত ব্যবহার করতে হবে। পুকুর শুকিয়ে যেতে পারে এমন অঞ্চলে স্বল্প চাষ মেয়াদী মাছ চাষ করা উচিত।
গঙ্গার পলিমাটি অঞ্চল মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, শরিয়তপুর, মাদারীপুর গোপালগঞ্জ, যশোর মাগুড়া, নড়াইল, চুড়াডাংঙ্গা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, খুলনা সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, নবাবগঞ্জ, নাটোর ও পাবনা জেলা। এঁটেল, দো-আঁশ থেকে বেলে দো-আঁশ প্রকৃতির উর্বর মাটি; চুন বা ক্যালসিয়াম ও জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ। পিএইচ মান ৭.০-৭.৫ পানি ধারণক্ষমতা বেশি। পরিবেশ যে কোন মাছ চাষের উপযোগি। হ্যাচারি বা নার্সারি ও চিংড়ি চাষ লাভজনক। পুকুর শুকিয়ে যাওয়ার আশংকায় পুকুর গভীর করা উচিত নয়। পুকুরের তলদেশের বালির উপর পলিযুক্ত এটেল মাটি বিছিয়ে ভালভাবে পিটিয়ে শক্ত করে দিয়ে পানি ধারণক্ষমতা বাড়ানো যায়। প্রয়োজনে রাজপুঁটি, নাইলোটিকা প্রভৃতি মাছ চাষ করা যায়।
লবণাক্ত মাটি অঞ্চল খুলনা ও বরিশাল জেলার অংশবিশেষ, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, চট্রগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুণা এবং ভোলার সমুদ্রবর্তী ও চরাঞ্চল। এলাকা বিশেষে দো-আঁশ প্রকৃতির ও লবণাক্ত; পটাশ, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস সমৃদ্ধ। পিএইচ মান ৭.০-৮.৫ লবণাক্ততা বেড়ে গেলে মাটির বাঁধন ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। চিংড়ি চাষ লাভজনক। নাইলোটিকাও চাষ করা যেতে পারে। রুইজাতীয় মাছচাষের সুযোগ সীমিত। পুকুরের পাড়ের মাটির বাঁধন দৃঢ় করার জন্য পাড়ে লতা-গুল্ম জন্মানো উচিত। জীব কণার ভারসাম্য রক্ষায় জৈব সার ব্যবহার করা যায়। পুকুরের সদ্ব্যবহার করতে প্রয়োজনে পাঙ্গাস, ভেটকি, মাগুর প্রভৃতি মাছ চাষ করা যায়।
পাহাড়িয়া অঞ্চল চট্রগ্রাম, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, কক্সবাজার, নেত্রকোণা জেলার পাহাড়ী এলাকা, মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলার অঞ্চল বিশেষ। নূড়ি, নূড়ি পাথর, বালি ও পাথুরে কণার সংমিশ্রণে লালচে এটেল প্রকৃতির মাটি: জৈব পদার্থের পরিমাণ কম। পিএইচ মান ৭-৮.৫ পুকুরে প্রাকৃতিক খাদ্যকণা কম জন্মে। পানি ঘোলাটে হতে পারে। মাছের ফুলকা বা চোখে সৃষ্টি হতে পারে। জৈব সার ব্যবহার করতে হবে। পাড়ে ঘাস লাগিয়ে ঘোলাত্ব কমানো যায়। প্রয়োজনে তলদেশে বিচরণ করে এমন মাছ কম সংখ্যক মজুদ করতে হবে।
এসিড সালফেট অঞ্চল লবণাক্ত অঞ্চলেরই এলাকাবিশেষ, খুলনা ও সাতক্ষিরা জেলার সমুদ্রবর্তী অঞ্চলের কিছু কিছু এলাকা। লোহা ও হাইড্রোজেন সালফাইট সমৃদ্ধ হলুদ রংয়ের মাটি। পিএইচ মান ৫ এর নিচে। প্রাকৃতিক খাদ্যকণা উৎপাদনের পরিবেশ বজায় থাকে না। মাছের ফুলকা, চামড়া বা চোখে ক্ষত হতে পারে। মাছ চাষে অনুপযোগী। মাটি শোধন করে মাছ চাষ করতে হবে। মাটি নিরপেক্ষ করার জন্য জৈব পদার্থ ও চুন ব্যবহার করতে হবে। বড় আকারের পোনা মজুদ করতে হবে।

 

তথ্যসূত্র: DoF

#1

Please login or Register to Submit Answer

Latest Q&A

To get new Q&A alert in your inbox, please subscribe your email here

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Like our FaceBook Page to get updates

Are you satisfied with this site?

If YES, Please SHARE with your friends

If NO, You may send your feedback from Here

OR, Do you have any fisheries relevant question? Please Ask Here