বিদেশী মাছ উপকারী না অপকারী?

1 answer

বাংলাদেশের জন্য বিদেশী মাছ উপকারী না অপকারী তা এক কথায় বলা সম্ভব নয়। এর সাথে অনেক প্রভাবক জড়িত। যাই হোক নিচে বাংলাদেশের বহুলপরিচিত বিদেশী মাছের ভাল-মন্দ দিক তুলে ধরা হল-

  1. সিলভার কার্প (Hypopthalmichthys molitrix)
    • বাংলাদেশে এই বিদেশী মাছের আবির্ভাব ১৯৬০ সালে ঘটে।
    • চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রে ১৯৭৬ সালে সফলতার সঙ্গে এই মাছের প্রজনন ক্রিয়া ঘটানো হয়। কার্পের মিশ্রচাষে পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে যে প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় বছর পর্যায়ক্রমে ১-১.৫ কেজি; ২.০-২.৫ কেজি এবং ৩-৪ কেজি পর্যন্ত দেহবৃদ্ধি ঘটে। এর বৃদ্ধি নির্ভর করে মিশ্র চাষে সঠিক পোনা মজুদের ওপর।
    • প্রজনন মৌসুমে এই মাছটি আমাদের দেশীয় কার্প মাছের চেয়ে আগে প্রজনক্ষম (মার্চে) হয়ে ওঠে। পুরুষ সিলভার কার্প, ১ বছরের মধ্যে প্রজননক্ষম হয়।
    • সিলভার কার্প যেহেতু উদ্ভিদ প্ল্যাংকটন খাদ্যভোজী, সেহেতু কাতল মাছের সাথে খাদ্য প্রতিদ্বন্ধিতা দেখা দেয়। মিশ্রচাষে কাতলার চেয়ে সিলভার কার্পের দেহ বৃদ্ধি অল্প সময়ে বেশি ঘটে কিন্তু কাতলার দেহবৃদ্ধি সেই অনুপাতে ততোটা ঘটে না। তাই কাতলা মাছ সিলভার কার্পের সাথে চাষ না করে একক চাষ করাই শ্রেয়।
    • সিলভার কার্প মাছ নাজুক বিধায় এর আহরণ থেকে শুরু করে বাজারে সরবরাহ পর্যন্ত সতর্কতার সাথে দৃষ্টি রাখতে হয় নতুবা অল্প সময়েই পচন দেখা দেয়।
    • এছাড়া অন্যান্য মেজর কার্পের চেয়ে এর মূল্যমান বেশ কম। তাই মিশ্রচাষে যাওয়ার আগে কার্পের কী কী প্রজাতি বাজারে দাম বেশি পাওয়া যাবে সেই ভাবে চাষ বাস্তবায়ন করতে হবে।
  2. Big Head Carp (Aristichthys nobilis)
    • ১৯৮১ সালে বিগ হেড কার্প নেপাল থেকে বাংলাদেশে আনা হয়।
    • সিলভার কার্পের ন্যায় বিগ হেড কার্প পুকুরের ওপরের স্তরের খাদ্য গ্রহণ করে। সিলভার কার্পের চেয়ে পরিপক্ক বিগ হেড কার্পের দেহ প্রতিদিন ১৪.৭ গ্রাম করে বৃদ্ধি পায়, যা সিলভার কার্পে এই বৃদ্ধির পরিমাণ ৬.৮ গ্রাম।
    • রায়পুর হ্যাচারীতে এক গবেষণায় দেখা যায় যে স্বল্প সংখ্যক বিগ হেডের পোনা মজুদ করে ২ বছর চাষ চলাকালীন সময়ে ৬-৮ কেজি পর্যন্ত ওজন বৃদ্ধি পেয়েছে।
    • বিগ হেড স্থানীয় কার্প মাছের চেয়ে আগে পরিপক্কতা লাভ করে এবং কার্পের প্রধান মাছ কাতলের চেয়ে অল্প সময়ে দেহ বৃদ্ধি বেশি হয়। কাতল
    • মাছের সাথে বিগ হেডের মিশ্রচাষ লাভজনক নয় কারণ কাতলের সাথে এদের খাদ্য প্রতিদ্বন্ধিতা দেখা দেয।
    • প্রাকৃতিক পরিবেশে এদের প্রাধান্যতা বিষয়ক কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত নেই।
  3. Grass Carp (Ctenopharynggden idella)
    • বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গ্রাস কার্প একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্প প্রজাতি, যা জলজ আগাছা নিয়ন্ত্রণে প্রধান ভূমিকা রাখে।
    • ভারতে এই প্রজাতি ভাসমান জলজ উদ্ভিদ যেমন Hydrilla, Najas, Vallisnerria, Ceratophyllum, Wolffia, Lemna, Azolla, Salvinia ইত্যাদি খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে উদ্ভিদের বংশ বিস্তারকে নিয়ন্ত্রণ করে।
    • বাংলাদেশেও এই প্রজাতির চাষ বাস্তবায়নের ফলে জলজ উদ্ভিদের বংশ বিস্তার নিয়ন্ত্রণে প্রধান ভূমিকা রাখছে।
    • এক পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে গ্রাস কার্প কচি কলা পাতা, নরম কচি গাছের পাতা ও কচুরী পানার কান্ড খেতে ভালোবাসে।
    • এই প্রজাতিকে জলজ উদ্ভিদ খাদ্য হিসেবে নিশ্চয়তা প্রদান করলে এটি অন্যান্য কার্প মাছের চেয়ে দ্রুত বর্দ্ধনশীল মাছ হিসেবে গণ্য হবে।
    • ১৯৮০ সালে ঝিনাইদহের আগাছাপূর্ণ বালুহর (Baluhor) বাওরে এই মাছ চাষ করার ফলে বাওরের মাছের উৎপাদন অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।
    • এছাড়া গ্রাস কার্পের বর্জ্য পদার্থ পুকুরে সার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এজন্য বাড়তি সার দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।
    • এই প্রজাতি অন্যান্য কার্প প্রজাতির সাথে খাদ্য প্রতিদ্বন্ধিতায় সম্মুখীন হয় না। আবার এর নেতিবাচক প্রভাব সম্বন্ধে কিছু বিক্ষিপ্ত তথ্য রয়েছে যে ঝিনাইদহে পানিতে নিয়মিত ধান ক্ষেত্রের ধান গাছ গ্রাস কার্প নষ্ট করে দেয়।
    • আবার শুষ্ক মৌসুমে ঘাস ও আগাছা খাদ্য হিসেবে সংগ্রহ করে গ্রাস কার্প চাষ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
  4. Black Carp (Mylopharyngodon piceus)
    • কালো বর্ণের মেজর কার্প বা ব্ল্যাক কার্পকে শামুক কার্পও বলা হয়ে থাকে। কারণ এদের মুখে molariform দাঁত থাকায় শামুককে টুকরো টুকরো করে খায়।
    • ১৯৮৩ সালে চীনে Kwantung প্রদেশের উদ্ধতন কর্মকর্তার সাথে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে ২০০০ ব্ল্যাক কার্পের পোনা বাংলাদেশে আনা হয় এবং বাংলাদেশের একুয়াকালচার এক্সপেরিমেন্টাল স্টেশন, ময়মনসিংহ ও রায়পুরার হ্যাচারী ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রাথমিক গবেষণার জন্য ব্ল্যাক কার্প মাছ চাষ করা হয়। এতে দেখা যায় যে ১৩ মাস চাষকালীন সময়ে ব্ল্যাক কার্পের পোনার দেহ বৃদ্ধি ১৫৮৭ গ্রামে উত্তীর্ণ হয়েছে। আবার কিছু কিছু মাছ ৪২০০ গ্রামে উন্নীত হয়।
    • কোট চাঁদপুরের কেন্দ্রীয় হ্যাচারী কমপ্লেক্সেও এদের দেহ বৃদ্ধি দ্রুত ঘটে ও সফলতায় সাথে প্রজনন ক্রিয়ার মাধ্যমে ডিম নির্গমন করে এবং নিষিক্ত ডিম হতে পোনা উত্পাদিত হয়।
    • ব্ল্যাক কার্পের পোনা বালুহর (Baluhor) বাওরে ছাড়া হয় এবং ১ বছরে ২-৩ কেজি দেহ বৃদ্ধি ঘটে। বালুহর বাওরের শামুক ভক্ষণ করে শামুকের বংশ বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। এতে বাওরের অন্যান্য মাছের উৎপাদন বেড়ে যায়।
    • তবে বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন হ্যাচারীতে অল্প সংখ্যক প্রজননক্ষম মাছ মজুদ আছে এবং সেই সব মাছ থেকে অল্প সংখ্যক ব্ল্যাক কার্প উৎপাদন করা হয়।
    • হাওর বাওর এলাকায় এই মাছের বিস্তার ঘটলে শামুক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে বলে মৎস্য বিজ্ঞানীদের অভিমত।
  5. Common Carp (Cyprinus carpio v. communis)
    • ১৯৬০ সালে এই মাছ মত্স্য অধিদপ্তর কর্তৃক ভারত থেকে আনা হয়।
    • আরেকটি তথ্যে জানা যায় যে কুমিল্লা ও যশোহর এলাকায় সৌখিন মত্স্য চাষীরা ১৯৭৫ এর আগে থেকে ভারত হতে এনে কার্পিও মাছের চাষ শুরু করে।
    • কমন কার্পকে স্কেইল কার্পও (Cyprinus Carpio v. communis) বলা হয়। এই কার্প মাছ বদ্ধ জলাশয়ে পরিপক্ক হয়ে ওঠে এবং এর প্রজনন অগভীর আগাছা পূর্ণ জলাশয়ে ঘটে থাকে।
    • কমন কার্পের দেহ বৃদ্ধি নির্ভর করে জলাশয়ে তাপমাত্রা, প্রাকৃতিক খাদ্যের প্রতুলতা, পোনা মজুদের পরিমাণ এবং সম্পূরক খাদ্য প্রয়োগের ওপর।
    • কমন কার্পের সাথে কাতলা, বিগহেড, সিলভার কার্পের মাছের খাদ্য প্রতিদণ্ডিতা করে না।
    • ময়মনসিংহের তত্কালীন একুয়াকালচার এক্সপেরিমেন্টেল স্টেশন দেখা গেছে যে ৭ মাস চাষ চলাকালীন সময়ে কমন কার্পের দেহ বৃদ্ধির গড় হার ১.৭ কেজি।
    • কমন কার্প খুবই শক্ত সামর্থ্য এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন মাছ।
    • কর্দ্দমুক্ত এলাকায় লেজ দিয়ে জোরে নড়াচড়া করার কারণে কর্দ্দমাক্ত এলাকার পুষ্টি উপাদান জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়ে। মাছেরা এই পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করার ফলে এদের দেহ বৃদ্ধি তাড়াতাড়ি ঘটে।
    • কমন কার্পের পিট্যুইটারী হরমোন কৃত্রিম উপায়ে পোনা উত্পাদনের জন্য প্রজননক্ষম মাছে ব্যবহার করা হয়।
    • তৃতীয় মত্স্য প্রকল্পের অধীনে উম্মুক্ত জলাশয়ে কমন কার্পের পোনা ছেড়ে এর উত্পাদন অল্প সয়ে সফলতা লাভ করেছে। তৃতীয় মত্স্য প্রকল্পের অধীনে অন্যান্য বিলে (জলাশয়ে) ১৫-৩০% কমন কার্পের উত্পাদন বেড়েছে।
    • ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশের মত্স্য গবেষণা ইনস্টিট্যুট ভিয়েতনাম হতে জীনতাত্ত্বিক উন্নতমানের স্কেইল কার্প বা কমন কার্প আনে। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল উন্নত জাত নির্বাচনের মাধ্যমে কার্প উন্নয়ন কর্মকান্ড ত্বরান্বিত করা।
    • জাপানিজ উন্নত জাতের কার্প (Hi Goi) বাংলাদেশে কখন এসেছে তার সঠিক তথ্য নেই। তবে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় যে যশোরের বেসরকারি খামারে ১৯৮০ সালে জাপানের এই উন্নত জাতের কার্প আনা হয়।
    • কমন কার্পের নেতিবাচক প্রভাব
      • লেজ দিয়ে জোরে কর্দ্দমাক্ত এলাকা কিংবা পুকুরের কিনারায় মাটি নাড়াচাড়ার করার ফলে পুকুরের কিংবা জলাশয়ের পানির ঘোলাত্ব বৃদ্ধি পায় এবং পুকুরের পাড়ের মাটি খসে পড়ে।
      • অল্প বয়সকালে কমন কার্প পরিপক্কতা লাভ করে।
      • কিছু কিছু কমন কার্পের মজুদ পোনা দেহ বৃদ্ধি বাধা পায় কিংবা স্থবির হয়ে পড়ে।
      • বেড় জাল দিয়ে কমন কার্প আহরণ করা দুষ্কর হয়ে ওঠে।
      • কমন কার্পের ডিমগুলো অতি সহজে ছত্রাক দ্বারা আক্রান্ত হয়; ফলে স্বাস্থ্যবান পোনা জন্মাতে ব্যাঘাত ঘটে।
  6. Mirror Carp (Cyprirus carpio Var specularis)
    • মত্স্য অধিদপ্তর ১৯৭৯ সালে নেপাল থেকে মিরর কার্প আনে এবং রায়পুর মত্স্য হ্যাচারীতে চাষ ও প্রজননের জন্য মজুদ করে।
    • নেপালের এই বিদেশী মিরর কার্প প্রথম হাঙ্গেরীর দিনিস্ (Dinnyes) মত্স্য পোনা উত্পাদন খামার থেকে সংগ্রহ করে ছিলো।
    • মত্স্য অধিদপ্তর পরে Oxbow lake project-এর আওতায় বালুহর বাওরে উন্নত জাতের মিরর কার্প মজুদ করে। সর্বশেষ IFADEP প্রকল্পের আওতায় ৭০০ মিরর কার্পের পোনা কারবালা মত্স্য পোনা উত্পাদন খামারে (মত্স্য অধিদপ্তরের খামার) ছাড়া হয়। ওই সময় মিরর কার্পের পোনা সরকারি ও বেসরকারি খামারগুলোতে বিতরণ করা হয়।
    • বর্তমানে Brood Bank প্রকল্পের আওতায় নাটোর ও রাজশাহীর খামারে মিরর কার্পের পোনা বিতরণ করা হয়েছে।
    • বিগত ১৫ বছরে মিরর কার্পের মজুদ কমেছে। এই কমে যাওয়ার কারণের মধ্যে উন্নত জাত বাচাইয়ের ত্রুটি, সঙ্করায়ন এবং অন্ত:প্রজনন সমস্যা ইত্যাদি।
    • বর্তমানে বাজারে এই মাছের চাহিদা কম থাকায় চাষীরা এই মাছ চাষে আগ্রহী নয়।
    • বাংলাদেশের বাজারগুলোতে খুব কম সংখ্যক এই মাছ দেখা যায়। মত্স্য চাষীদের মতে মাছ বাজারে মিরর কার্প দেখা যায় তা বিল এবং পুকুরে চাষ থেকে আসে।
  7. থাই সরপুঁটি বা রাজপুঁটি (Barbodes Gonionotus)
    • থাইল্যান্ড থেকে ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশে প্রথম এই বিদেশী সরপুঁটি আনা হয়।
    • থাই সরপুঁটি আমাদের দেশীয় সরপুঁটির চেয়ে অল্প সময়ে দ্বিগুণে উন্নীত হওয়ায় একে রাজপুঁটি নামকরণ করা হয়েছে।
    • সাধারণত ৬ মাসে ৬০০-৭০০ গ্রামে উন্নীত হয় নতুবা ৫টিতে ১ কেজি হয়ে গেলে জলাশয় থেকে আহরণ করা হয়ে থাকে।
    • পরিবেশগত প্রভাব বিষয়ে এর নেতিবাচক দিক এখন পর্যন্ত জানা যায়নি।
    • তবে অল্প সময়ে দেহ বৃদ্ধি ঘটে বলে চাষীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
  8. তেলাপিয়া (Oreochromis mossambicus) এবং নাইলোটিক (O. niloticus)
    • এদের আদি বাসস্থান আফ্রিকার পশ্চিম, উত্তর এবং দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদী এবং লেইকে।
    • এই মাছের উন্নত জাত এশিয়ার বিভিন্ন দেশে প্রধানত ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, শ্রীলংকা, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম, চীন ও বাংলাদেশে বিস্তারলাভ করেছে।
    • আফ্রিকাতে তেলাপিয়ার ৭০টি প্রজাতি রয়েছে। এদের মধ্যে যে সব প্রজাতি চাষ করে অধিক লাভজনক হয় তা হলো ১। নাইল তেলাপিয়া (Oreochromis niloticus), ২। ব্লু তেলাপিয়া (O. aureus), ৩। মোজাম্বিক তেলাপিয়া (O. mossambicus), ৪। থ্রি স্পটেট তেলাপিয়া (O. andersonis), ৫। লংফিন তেলাপিয়া (O. macrochir), ৬। গ্যালিলি তেলাপিয়া (Sartherodes galilaeus), ব্ল্যাকচিন তেলাপিয়া (S. melarotheron) এবং রেডবেলী তেলাপিয়া (Tilapia zillii)।
    • বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তেলাপিয়ার উন্নত জেনেটিক জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। যেমন- Gift Straen লাল তেলাপিয়ার জাত (Red Tilapia Strain) এবং Gmt strain ও হাইব্রিড জাত ইত্যাদি।
    • তেলাপিয়া মোজাম্বিক প্রজাতি ১৯৫৪ সালে থাইল্যান্ড থেকে মশা দমনের জন্য আনা হয়েছিলো।
    • আমাদের বিজ্ঞানীদের এই প্রজাতির ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রভাব বিষয়ে তেমন ধারণা ছিলো না। আমাদের স্থানীয় অনেক প্রজাতি আছে যারা পানির উপরের স্তরে খাদ্য গ্রহণ করে থাকে। তার মধ্যে অন্যতম দারকিনা মাছ। কিন্তু দারকিনা মাছ মৎস্যভূক প্রাণী ও জলজদূষণ দ্বারা নির্মূল হতে চলেছে।
    • বাংলাদেশে তেলাপিয়া ও চিংড়ির মিশ্র চাষে নেতিবাচক প্রভাব দেখা দেয় বলে বিজ্ঞানীরা অভিমত প্রকাশ করেন। খামারে তেলাপিয়া ও চিংড়ির মধ্যে খাদ্যের প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়। তেলাপিয়া যেহেতু দ্রুত বংশ বিস্তার করে সেহেতু তেলাপিয়ার পোনার জন্য অধিক খাদ্য প্রয়োগে দেহবৃদ্ধি ঘটে। কিন্তু চিংড়ির খাদ্য গ্রহণ পদ্ধতি ধীর হওয়ায় দেহ বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য তাড়াতাড়ি গ্রহণ করতে পারে না। কারণ তেলাপিয়া খামারে প্রয়োগকৃত খাদ্য তাড়াতাড়ি ভক্ষণ করে ফেলে। এতে চিংড়ির দেহ বৃদ্ধি হ্রাস পায়।
    • ভারতের নতুন দিল্লীতে প্রতিষ্ঠিত ইন্দোপেসিফিক ফিসারীজ কমিশনের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে মেজর কার্পের সাথে তেলাপিয়ার মিশ্রচাষে কার্পের দেহ বৃদ্ধি হ্রাস পায়। কারণ তেলাপিয়ার বংশবৃদ্ধি অল্প সময়ের মধ্যে বিস্তারলাভ করে, ফলশ্রুতিতে কার্পের সাথে খাদ্যের প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়।
    • ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও মহারাষ্ট্রে তেলাপিয়া চাষ বিস্তারলাভ করেছে। তেলাপিয়ার সাথে সিলভার কার্প ও কমন কার্প চাষের ফলে বিদেশী এই কার্প প্রজাতির প্রজনন ক্ষেত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
    • ভারতের গবিন্দসাগর জলাশয়ে সিলভার কার্প ও কাতলা পোনা মজুদের ফলে তাদের মধ্যে খাদ্য প্রতিযোগিতা দেখা যায়। এর ফলে কাতলা ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
    • বিজ্ঞানী ডুকামুয়াম ও ফলপ্রাস্টিন (১৯৭৬) এর মতে থাইল্যান্ডে তেলাপিয়ার উৎপাদন যদিও বেড়েছে কিন্তু এর জন্য স্থানীয় রুই মাছের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
    • বিজ্ঞানী শ্রীনিভাশন (১৯৭৭) এর মতে কিছু কিছু খামারে বা জলাশয়ে (অমরাবতী জলাশয়) তেলাপিয়া চাষের ফলে স্থানীয় পুঁটিমাছের বংশ বিস্তারে ব্যাঘাত ঘটেছে।
  9. থাই পাঙ্গাস (Pangusius hypophthalmus and P. Sutchi)
    • ১৯৯০ সালে থাই পাঙ্গাসের পোনা আনা হয় এবং মত্স্য অধিদপ্তরের ২০টি খামারে ছাড়া হয়।
    • সফলতার সাথে থাই পাঙ্গাসের পোনা বড় করে পরবর্তীতে প্রজননক্ষম থাই পাঙ্গাস হতে পোনা উত্পাদন করে মত্স্য চাষীদের কাছে বিতরণ করা হয়।
    • আজ বেসরকারি হ্যাচারীগুলো পাঙ্গাস মাছের পোনা উত্পাদন প্রযুক্তি আয়ত্ব করে সফলতার সহিত পোনা উত্পাদন করছে।
    • বর্তমানে পুকুরে মাছের খাদ্য শিকলের ভারসাম্যতা তোয়াক্কা না করে ব্যাপকভাবে এই মাছ চাষ হচ্ছে।
    • উম্মুক্ত জলাশয়ে এর বিস্তার বিষয়ে কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
    • আমাদের স্থানীয় সুস্বাদু পাঙ্গাস যমুনা নদীতে বিচরণ করে। এর পোনা উত্পাদন প্রযুক্তি এখনো উদ্ভাবন সম্ভব হয়নি, আমাদের গবেষকরা স্থানীয় পাঙ্গাস মাছের (Pangasius pangasius) প্রযুক্তি সফলতার সাথে উদ্ভাবন করে ও মাঝপথে গবেষণা কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছেন। সবাই এখন বিদেশী থাই পাঙ্গাস চাষে ব্যস্ত আছেন।
    • আমাদের স্থানীয় পাঙ্গাস মাছের উন্নয়ন না ঘটালে একদিন হয়তো এই মাছ যমুনা নদী থেকে হারিয়ে যাবে।
    • এখন পর্যন্ত এর উত্পাদনের কথাই বলা হচ্ছে কিন্তু লক্ষ্য করলে দেখা যাবে যে পুকুরে পাঙ্গাস চাষ করা হয়, সেই পুকুরে অন্য কোনো মাছ চাষ করা হয় না করলেও পাঙ্গাসের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ফলে পুকুরগুলোতে বিশেষ করে ছোট মাছের উত্পাদন দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে।
    • পাঙ্গাসের প্রিয় খাদ্য শামুক বা ঝিনুক। পুকুরে বসবাসকারী শামুক বা ঝিনুকের বহিঃখোলসে ছোট ছোট উদ্ভিদ কিংবা প্ল্যাংটন প্রাণী জীবনচক্রের কোনো কোনো সময় আশ্রয় নেয়। এতে পুকুরে মাছের খাদ্য শিকলের ভারসাম্যতা বজায় থাকে। শুধু পাঙ্গাস একক চাষে পুকুরের শামুক কিংবা ঝিনুক পাঙ্গাসের খাদ্য হিসেবে ভক্ষণ করে বলে পুকুর থেকে শামুক-ঝিনুক বিলুপ্তি ঘটবে।
  10. আফ্রিকান মাগুর ও পিরানহা মাছ (Clarias garipinnus and Serrasilmus nateri)
    • এই দুটি মাছ জলজ প্রাণীর মধ্যে রাক্ষুসে মাছ হিসেবে শীর্ষে অবস্থান করছে।
    • আফ্রিকান মাগুর হচ্ছে জলজ দৈত্য আর পিরানহা হলো জলজ হায়েনা। এ
    • র নেতিবাচক প্রভাব দেখে সরকার ইতিমধ্যে এই দুটি মাছ নিষিদ্ধ করেছেন।
    • কিন্তু আইনের বিধান তোয়াক্কা না করে মাঝে মধ্যে এই মাছ বাজারে দেখা যায়।
    • আইনের প্রয়োগ শক্ত হাতে বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলে মত্স্য বিজ্ঞানীরা মনে করে।

তথ্যসূত্র:

  • সুশান্ত কুমার পাল চৌধুরী, মত্স্যচাষে বিদেশী মত্স্য প্রজাতির পরিবেশগত প্রভাব এবং স্থানীয় মাছের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির গুরুত্ব, খামার (ওয়েব সংস্করণ, http://www.khamarbd.com)
  • Rahman, A.K. Ataur (2005) Freshwater Fishes of Bangladesh, Published by Zoolosical Society of Bangladesh. Exotic species. pp 23-33.
  • Safi Md. (2003) The Exotic Fish and their Impact: Bangladesh Fisheries Published by Academic Press and Publishers limited. Dhaka. pp 29-33.
#1

Please login or Register to Submit Answer

Latest Q&A

To get new Q&A alert in your inbox, please subscribe your email here

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Like our FaceBook Page to get updates

Are you satisfied with this site?

If YES, Please SHARE with your friends

If NO, You may send your feedback from Here

OR, Do you have any fisheries relevant question? Please Ask Here